
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মামলা-হামলা ও কারা নির্যাতনের শিকার বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করতে সুনামগঞ্জে এক ব্যতিক্রমী প্রীতি মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘এসো মিলি প্রাণের উচ্ছ্বাসে’ স্লোগানকে সামনে রেখে গত শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওর পাড়ে এই আনন্দভ্রমণ ও পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়। সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনের সংসদ সদস্যের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের এক আবেগঘন মিলনমঞ্চে পরিণত হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এমন মূল্যায়নে আনন্দিত চার উপজেলার বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী এই আয়োজনে অংশ নেন।
বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ও আয়োজক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান কামরুল। বিগত নির্বাচনে এই আসনে প্রথমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হককে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হলেও প্রতীক বরাদ্দের ঠিক আগের দিন তা পরিবর্তন করে কামরুজ্জামান কামরুলকে মনোনীত করা হয়। রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের এক অনন্য নজির স্থাপন করে আনিসুল হক নিজেও এই আনন্দভ্রমণে যোগ দেন এবং পুনর্মিলনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ধর্মপাশা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোতালেব খান। এ ছাড়া সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক আফেন্দী, মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবে হায়াত, তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল ও রাকাব উদ্দিন এবং ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, বিগত দিনে আমরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছি, একে অপরের পাশে থেকেছি এবং হাতে হাত রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি; ঠিক একইভাবে বর্তমান সময়েও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দলে কোনো ধরনের বিভেদ বা বিভক্তি রাখা যাবে না। সবাইকে সম্মান ও যথাযথ মূল্যায়ন করার মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করাই এই আনন্দ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গায়েবি মামলার শিকার ও কারাবরণকারী কর্মীরা আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তারা স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় কারানির্যাতন ভোগ করেছেন। সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের এই উদ্যোগ ও মূল্যায়ন তাদের বিগত ১৬ বছরের ত্যাগ ও কষ্টকে সার্থক করেছে। মিলনমেলায় অংশ নেওয়া অন্য নেতা-কর্মীরা উল্লেখ করেন, নির্যাতিতদের সম্মান জানাতে এমন আয়োজন সত্যিই এক বিরল দৃষ্টান্ত, যা দলের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তিকে আরও বেগবান করবে। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দলকে আরও শক্তিশালী করতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নেতা-কর্মীরা। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আনন্দভ্রমণ ও পুনর্মিলনী পর্ব শেষ করে বুকভরা আনন্দ নিয়ে হাওরপাড় থেকে বিদায় নেন তারা।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।