
নিজের জন্মভূমি জকিগঞ্জের মাটিতে প্রশাসন কর্তৃক সম্মেলনে বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেট-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আনজুমানে আল-ইসলাহর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। আজ সোমবার (০৮ জুন) দুপুরে জকিগঞ্জ ডাক বাংলা মাঠে আয়োজিত বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব, শিক্ষানীতি এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন।
মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী বলেন, দেশের অনেক জায়গায় উপজেলা সম্মেলন করার সময় প্রশাসন ও সাংবাদিকরা সহযোগিতা করেছেন, এমনকি পুলিশ প্রটোকলও পাওয়া গেছে। কিন্তু আজ জকিগঞ্জে এক অপরিচিত মানুষের মতো বড় অসহায় অবস্থায় এই প্রোগ্রাম করতে হচ্ছে। প্রশাসন থেকে কেন বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে এবং এর পেছনে কারা আছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যার যা কিছু বলতে পারো, থামবে না এই গান। গাইবই আমরা আউলিয়ায়ে কেরাম বুযুর্গানের গান।’ শতবার প্রাণ দিতে হলেও দ্বীনকে অগ্রসর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি জকিগঞ্জের মাটিতে কোনো আগাছা নন। ৬০০ বছর ধরে তাঁর পূর্বপুরুষরা এই মাটিতে দ্বীনের খেদমত করছেন। হযরত সাহেব ক্বিবলা ফুলতলী (র.)-এর ইন্তেকালের ১৮ বছর পরেও তাঁর আওলাদরা সেই আপসহীন পথ থেকে সরে আসেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বর্তমান সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার বর্তমান সময়টি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এটি দাজ্জালি ফিতনা ছাড়া আর কিছু নয়। এখানে কার ছবিতে কার মুখ বসিয়ে দেওয়া হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি কোরআন-হাদিসকে অস্বীকার করার দুঃসাহস দেখানো হচ্ছে। মায়ের লাশ ঘরে পচে গেলেও সন্তানরা এগিয়ে আসছে না, যা জেহালতের চেয়ে চেয়ে আরও বড় জেহালত। বাবার বিরুদ্ধে মেয়ে আর ওস্তাদের বিরুদ্ধে শিশুর অভিযোগের মতো ঘটনা ঘটছে। তিনি তালামীয কর্মীদের স্রোতে গা না ভাসানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, কে কী বলল তা নিয়ে উত্তেজিত হওয়া যাবে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা মন্তব্য ডিলিট করলেও আল্লাহর কাছে তার রেকর্ড থেকে যায়।
শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ও বিগত সরকারের শিক্ষানীতির সমালোচনা করে মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী বলেন, আজকাল শিক্ষাঙ্গনে বেয়াদব এবং মা-বাবার অবাধ্য সন্তান তৈরি করা হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়ে যখন সবাই ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে ছিল, তখন শিশুদের ওপর ডারউইনের বস্তাপচা মতবাদ চাপানো হয়েছিল। তাঁরা এদেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করার এবং শিক্ষানীতিকে ডানপন্থী করার চেষ্টা করেছেন। মূর্তি স্থাপনের বিপক্ষেও তাঁরা কথা বলেছেন। মিথ্যাচার করে সত্যকে গোপন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্কুল-কলেজের ছাত্রদের ওপর যখন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন তাঁরাই হুঙ্কার দিয়ে তা স্তব্ধ করেছিলেন। সন্তানদের যেন গোমরাহির পথে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও সংগঠনের নীতি পরিষ্কার করে সাবেক এই এমপি বলেন, তিনি একজন সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তিনি জনবিচ্ছিন্ন নন, বরং জনবান্ধব সংসদ সদস্য ছিলেন। তাঁকে ফুৎকার দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। গত নির্বাচনে অনেকে তাঁর নাম ভাঙিয়ে নির্বাচন করেছে, যা তাঁর জনসমর্থনেরই প্রমাণ। তিনি কোনো দলের বিরুদ্ধে বলছেন না উল্লেখ করে বলেন, মুখ খুললে তিনি খোলার মতোই খুলবেন। আলেম নামধারী হয়েও যারা জবান দিয়ে খারাপ কথা বের করেন, তাদের হাত থেকে ইসলামকে রক্ষা করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে যদি বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়, তবে তা সহ্য করা হবে না। তালামীযে ইসলামিয়া কখনো এগ্রেসিভ হয়ে কাউকে আক্রমণ করে না, কিন্তু কেউ আক্রমণ করলে তা প্রতিহত করতে দ্বিধাবোধ করবে না।
বক্তব্য শেষে তিনি মোনাজাতের মাধ্যমে ছাত্র সমাজ ও পরবর্তী বংশধরদের ঈমান ও দ্বীনের ওপর অটল থাকার দোয়া করেন।
সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহর সুযোগ্য নাতি মাওলানা ফারহান আহমদ চৌধুরী রেদা, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাও. আব্দুস সবুর, জকিগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এখলাছুর রহমান, সিলেট পূর্বজেলা তালামীযের সভাপতি হোসাইন আহমদ, সিলেট মহানগর সভাপতি হোসাইন আহমদ, সাবেক জেলা সভাপতি মো. ইসলাম উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট পূর্ব জেলা সহ সভাপতি আহমদ আল মনজুর, সাধারণ সম্পাদক আবু ছায়িদ মো. আশিক, জকিগঞ্জ বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদ খতিব মাওলানা মোশাহিদ আহমদ কামালী, সিলেট পূর্ব জেলা তালামীযের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এহসান মোহাম্মদ শামীম, জকিগঞ্জ উপজেলা আল ইসলাহ’র সভাপতি মাওলানা মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী, সোনাপুর মাজহারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. কুতবুল আলম, জকিগঞ্জ পৌর আল ইসলাহর সভাপতি মাও. কাজী হিফজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সেলিম আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা আল ইসলাহর সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বার, মাওলানা মো. ইমাদ উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাও. মো. ফদ্বলুর রহমান, জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব এর সভাপতি সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ, জকিগঞ্জ এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মাও. কামাল আহমদ, সিলেট পূর্ব জেলার সহ-প্রচার সম্পাদক মো. আলিম উদ্দিন, ইয়াকুবিয়া হিফজুল কুরআন বোর্ড জকিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মাও. আলী হোসেন, জকিগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা ফারুক আহমদ, উপজেলা আল ইসলাহর প্রচার সম্পাদক মাও. মো. ময়নুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহেদ আহমদ ফারহান, নাজাত ফাউন্ডেশন সিলেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওছার আহমদ, সাবেক উপজেলা সভাপতি মো. আবু সুফিয়ান, জকিগঞ্জ পৌর সভাপতি মো. দিলশাদ আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ, ইছামতি দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা সভাপতি আহমদ হোসাইন আইমান, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, ইছামতী ডিগ্রি কলেজ সভাপতি কাওছার আহমদ, সিলেট মহানগরীর ১২ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বাবর, উপজেলা সহ সাধারণ সম্পাদক রিয়াদুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাছুম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হিফজুর রহমান, সাবেক সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান জাব্বির, প্রচার সম্পাদক মোফাজ্জল আহমদ, অর্থ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম তুহিন, অফিস সম্পাদক আব্দুল হামিদ, সহ অফিস সম্পাদক আফজল হোসাইন, হাসান আহমদ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সাইফুর রহমান, সদস্য রেহান আহমদ, রেজাউল করিম, বারঠাকুরী ইউনিয়ন সভাপতি ফখরুল ইসলাম, বীরশ্রী ইউনিয়ন সভাপতি আলবাব হোসেন, সুলতানপুর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুস ছামাদ, রতনগঞ্জ আঞ্চলিক শাখা সভাপতি সুফিয়ান আহমদ, কসকনকপুর ইউনিয়ন সভাপতি আলী আকবর ইপন, মানিকপুর ইউনিয়ন সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সদর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মিজান, মানিকপুর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক শাহান আহমদ প্রমূখ।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।