ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে নানা বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ১০ বছর বয়সী শিশু সুফিয়া বেগমের। কিন্তু নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার সেই যাত্রা অকালেই শেষ হলো যাদুকাটা নদীর অতল গভীরে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই একটি খেয়া নৌকা ডুবে গেলে সাঁতার না জানা সুফিয়া প্রাণ হারায়। বাদাঘাট ইউনিয়নের শাহীনাবাদ গ্রামের সতু মিয়ার মেয়ে সুফিয়ার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিয়েছে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন দুপুর থেকেই তাহিরপুরের শিমুল বাগান ও বারেক টিলা এলাকায় পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় ছিল। বিকেলে যাদুকাটা নদীর পূর্ব পাড় থেকে পশ্চিম পাড়ের ঘাগটিয়া ঘাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নৌকাটিতে গাদাগাদি করে ওঠেন অসংখ্য যাত্রী। মাঝ নদীতে পৌঁছানোর পরপরই অতিরিক্ত ওজনের ভারে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে তলিয়ে যেতে শুরু করে। নৌকার অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে তীরে ফিরতে পারলেও সুফিয়া বাঁচতে পারেনি। নদীর পানিতে তলিয়ে যাওয়া শিশুটিকে পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তার নিথর দেহ নিস্তেজ হয়ে পড়েছ।
ঘাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাহাজুল ইসলাম জানান, ঈদের দিন হওয়ায় খেয়া ঘাটে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী নৌকায় ওঠায় মাঝ নদীতে বিপত্তি ঘটে। তবে নদীর পানি কম থাকায় ও স্রোত না থাকায় বড় ধরনের ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পেয়েছেন অন্যান্য যাত্রীরা; নয়তো মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারত। এদিকে খেয়া নৌকার মাঝি জয়দর আলীর ভাষ্যমতে, যাত্রীদের বারবার সতর্ক করা এবং অতিরিক্ত ভিড় থাকায় অনেককে পরের নৌকায় পার হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু যাত্রীদের অসহযোগিতা ও উপেক্ষা করার কারণেই নৌকাটি ডুবে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, যাদুকাটা নদীতে খেয়া নৌকা ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণেই মূলত এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় শিশুটির মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে খেয়া নৌকার মাঝিদের যাত্রীবহনের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী না তোলার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।