
ইউরোপের মাটিতে ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সান মারিনোর সেরাভালে স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দেশের বিরুদ্ধে জয়ের এই গৌরবময় রেকর্ডের দিনে বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে নতুন কোচ থমাস ডুলির অভিষেকও স্মরণীয় হয়ে থাকল। ইউরোপ মহাদেশে প্রথমবার খেলতে গিয়েই ইতিহাস গড়ার এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ, যাঁর পা ও মাথা থেকে আসা জোড়া গোলেই নিশ্চিত হয়েছে এই অবিস্মরণীয় জয়।
কাগজে-কলমে ফিফা র্যাংকিংয়ে ২১১ নম্বরে থাকা সান মারিনোর চেয়ে ১৮১তম স্থানে থাকা বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও ইউরোপের বৈরী কন্ডিশনে ম্যাচটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে সুদূর প্রবাসে ফুটবলার হামজা ও তপুদের সাহস জোগাতে গ্যালারিতে উপস্থিত হয়েছিলেন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী। এই ম্যাচে নতুন কোচ ডুলি শুরুর একাদশে রাখেননি শমিত সোমকে। অন্যদিকে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো দলে থাকলেও ডুলির আস্থা জিতে গোলপোস্ট সামলানোর মূল দায়িত্ব পান মিতুল মারমা। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের এই লড়াইয়ের ১৭তম মিনিটে বাংলাদেশ প্রথম জোরালো আক্রমণ চালায়, তবে ডি-বক্সে জামাল ভূঁইয়ার শট প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে প্রতিহত হয়। এর ঠিক দুই মিনিট পর, ম্যাচের ১৯তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে শেখ মোরছালিনের নিখুঁত ক্রসে শূন্যে ভেসে দারুণ এক হেডে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপান তপু বর্মণ। এটি কেবল বাংলাদেশের লিডই ছিল না, বরং ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিরুদ্ধে দেশের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোলের গৌরবও ছিল।
তবে প্রথমার্ধে বাংলাদেশের এই লিড ধরে রাখার আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি স্বাগতিকেরা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে একটি প্রতিআক্রমণ থেকে ফিলিপ্পো বেরার্দির নিখুঁত পাসে বল পেয়ে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পরাস্ত করেন নিকোলাস জিকোপেত্তি, যার ফলে সমতায় ফেরে সান মারিনো। এর কিছুক্ষণ পর, ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন সাদ উদ্দিন। কিন্তু সামনে কেবল প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি বলটি পোস্টের ওপর দিয়ে মারেন। ফলে ১-১ গোলের সমতা নিয়েই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে বিরতিতে যায় উভয় দল।
মধ্যবর্তী বিরতির পর বাংলাদেশ দলের রণকৌশলে বড় পরিবর্তন আনেন কোচ থমাস ডুলি। তিনি একসঙ্গে তিনজন ফুটবলারকে পরিবর্তন করে মাঠে নামান, যার মধ্যে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় শমিত সোমকে। এই কৌশলী পরিবর্তনের পর দ্বিতীয়ার্ধে ডুলির শিষ্যরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে নেয় এবং গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করতে থাকে। ম্যাচের শেষ দিকে, ৮৬তম মিনিটে আবারও বাংলাদেশের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। হামজা চৌধুরীর একটি চমৎকার ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে বিশ্বনাথ ঘোষ ভলি করেন, আর সেই বল থেকেই নিখুঁতভাবে মাথা ছুঁইয়ে সান মারিনোর জালে বল জড়ান তপু। এই চোখধাঁধানো গোলের সুবাদে বাংলাদেশ দলে ২-১ ব্যবধানের লিড এনে দেন তিনি, যা ছিল ম্যাচে তাঁর ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ২-১ গোলের ঐতিহাসিক ও গৌরবময় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।