
দীর্ঘ ১২ বছরের প্রেম। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক। কিন্তু প্রেমিকার অগোচরেই অন্য জায়গায় বিয়ে করেন প্রেমিক আলী হোসেন। এই প্রতারণার বিচার ও বিয়ের দাবিতে গত রোববার (০৪ জানুয়ারি) বিকেল থেকে প্রেমিকের বাড়িতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের এক তরুণী।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার ইউনিয়নের কন্দিয়ারচর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত আলী হোসেন ওই গ্রামের মৃত জুলহাস মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগী তরুণী গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আলী হোসেনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আলী হোসেন বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ওই তরুণীকে কিছু না জানিয়েই আলী হোসেন গোপনে অন্য জায়গায় বিয়ে করেন। সম্প্রতি বিষয়টি জানতে পেরে ওই তরুণী রোববার বিকেলে কন্দিয়ারচর গ্রামে আলী হোসেনের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আলী হোসেন বাড়ি থেকে আত্মগোপন করেছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
আলী হোসেনের বড় ভাই আছগর আলী জানান, তাঁদের ছোট ভাইয়ের এই সম্পর্কের বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না। তিনি বলেন,ওই তরুণী বাড়িতে আসার পর আমরা প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছি। এখন উভয় পরিবারের সম্মতিতে পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
মোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ময়নুল ইসলাম জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে একটি সমঝোতায় আসার জন্য দুই পরিবারকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, অনশনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগী তরুণী থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। ওসি আরও যোগ করেন,যেহেতু ঘটনার শুরু গোলাপগঞ্জ উপজেলায়, তাই অভিযোগ করতে হলে ভুক্তভোগীকে গোলাপগঞ্জ থানাতেই করতে হবে। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিয়ের দাবিতে ওই তরুণী এখনো তাঁর অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।