
দেশে বর্তমানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে হামে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭৫ গুণ বেড়েছে। অতিসংক্রামক এই রোগ থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে বাচ্চাদের হামের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রতিটি অভিভাবকের জন্য অপরিহার্য।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই দেশে ৬৭৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। গত বছর এই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৯ জন। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি (৩৬.২৪%) রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি হিসাবের বাইরেও অনেক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং বেসরকারি সূত্রে এখন পযর্ন্ত ৪১ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যাদের হামের উপসর্গ ও পরবর্তী নানা জটিলতা ছিল।
হাম মূলত রুবেলা নামক একটি অতিসংক্রামক ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়। সাধারণত আক্রান্ত হওয়ার পর নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়:
• তীব্র জ্বর ও কাশি: হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর আসা এবং সাথে খুসখুসে কাশি।
• সর্দি ও চোখ লাল হওয়া: নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ রক্তবর্ণ বা লাল হয়ে যাওয়া।
• শরীরে র্যাশ বা দানা: জ্বর শুরুর চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দেয়।
• অন্যান্য: হাঁচি ও শারীরিক দুর্বলতা।
সঠিক সময়ে বাচ্চাদের হামের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন না হলে মারাত্মক জটিলতা হতে পারে। হামের কারণে শিশুর শরীরে ভিটামিন ‘এ’-র অভাব দেখা দেয়, যা থেকে অন্ধত্ব বা রাতকানা রোগ হতে পারে। এছাড়া নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানপাকা, মুখে ঘা এবং মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো প্রাণঘাতী সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
যদি আপনার শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দেয়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:
• চিকিৎসকের পরামর্শ: র্যাশ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
• আলাদা রাখা : হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে। তাই আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশুদের থেকে অন্তত ৫ দিন আলাদা রাখুন।
• ভিটামিন এ ক্যাপসুল: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বয়সভেদে নির্দিষ্ট ডোজে দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
• তরল খাবার ও বিশ্রাম: শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি, তরল খাবার এবং পুষ্টিকর সুষম খাদ্য দিন।
• বিপদচিহ্ন খেয়াল করা: যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, বারবার বমি বা চোখ ঘোলা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করুন।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো টিকা। বাংলাদেশে সরকারিভাবে শিশুদের ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ ‘এমআর’ (মিজলস রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যারা দুই ডোজ টিকা পূর্ণ করেছে, তারা প্রায় সারা জীবনের জন্য এই সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।