
সিলেটে হামের উপসর্গে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। সোমবার (১১ মে) বিকেল ৪টা পর্যন্ত নতুন করে আরও এক শিশুর মৃত্যুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীরে র্যাশ ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তির হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষায়িত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালে দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা সংকট। ১০০ শয্যার বিপরীতে সেখানে ১২০ জন শিশু চিকিৎসাধীন থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫২ জনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে আরও ৬৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদিকে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫ শয্যার আইসিইউ ইউনিটকে ২২ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে ওসমানী হাসপাতাল থেকে একসঙ্গে ১৪ জন আক্রান্ত শিশুকে অ্যাম্বুলেন্সে করে শামসুদ্দিন হাসপাতালে স্থানান্তর করার বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, টিকা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং শিশুদের দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণেই এবার মৃত্যুর হার ও শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি, যে কারণে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫২ জন শিশুকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আমাদের আটজন চিকিৎসক ও নার্সরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং আমরা আক্রান্তদের সেবাদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষায়িত শামসুদ্দিন হাসপাতালেও উপজেলা থেকে আরও একজন শিশু চিকিৎসক এনে সংযুক্ত করা হয়েছে। রোগীর আধিক্য বিবেচনায় প্রয়োজনে এক শয্যায় একাধিক শিশুকে রেখেও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হতে পারে।
হাসপাতালের এই সংকটাপন্ন পরিবেশে দিশেহারা অনেক অভিভাবক। লুবনা আক্তার নামে এক মা জানান, দুই দিন আগে তার সন্তানের জ্বরের পাশাপাশি শরীরে র্যাশ দেখা দেয়। পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে এমন ভিড় দেখে তিনি শিশুর সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন।
একই সঙ্গে চিকিৎসাধীন আরেক শিশুর বাবা বলেন, “অনেকেই তো আইসিইউতে মারা যাচ্ছে, এখন আমরা কী করব? এক বেডে দুই-তিনজন করে শিশুকে রাখছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা আছি।”
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।