
শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শরিফ উদ্দিন ইমন। পুরো শরীরে জয়েন্টের ব্যথা, ফুসফুসের সমস্যা, বুকের ভেতর ব্যথা ও চাপ অনুভব করা এবং রক্ত বমি হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে যাওয়ার পর থেকেই কোমরের হাড়ের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় খোঁজ নেওয়ার মতোও কেউ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা ইমন তাঁর শারীরিক অবস্থা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা ত্যাগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি নিজের চিকিৎসার জন্য সহায়তা ও মানবিক বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।
চিঠিতে ইমন দাবি করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময় তাঁকে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দী হতে হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা ও আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে পরিবারকেও নানা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। বর্তমানে অসুস্থতার কারণে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
নিজের আকুতির কথা তুলে ধরে ইমন লিখেছেন, ‘নেতা, আমি ভিক্ষা চাই না। আমি শুধু আমার ১৬ বছরের ত্যাগের একটু মূল্য চাই। একটু চিকিৎসা, একটু সহানুভূতি, একটু মানুষের মতো বাঁচা।’
প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া শরিফ উদ্দিন ইমনের খোলা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
বরাবর
জনাব তারেক রহমান স্যার
বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান
আমি শরিফ উদ্দিন ইমন ২০০৯ সাল থেকে হাতে নিয়েছিলাম ধানের শীষ বড় ভাই ইসলাম উদ্দিন সাথে ছিলেন, ছিল বিশ্বাস।
২০১১ সালে রাজনৈতিক মামলার আসামি হলাম দুই ভাই, তার পরে আমার ভাইকে জেলে নেয়া হয় দেড়মাস পর মুক্তি পায় নির্যাতনের শিকার সহ্য করতে না পেরে এরপর ভাইটা আত্মহত্যা করলো। অতঃপর আমি একা হয়ে যাই।
২০১৫ সালে গাড়ি জ্বালানি মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আমাকে ১নং আসামি করে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর নির্যাতনের শিকার হতে হয় সাড়ে ছয় মাস মৌলভীবাজার জেলে কারাগারে দুইবার রিমান্ডের যন্ত্রণা। ২০১৮ সালে ঢাকার আরামবাগ থেকে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কেরানীগঞ্জ কারাগারে দুইমাস সাত দিনসহ মোট ২৫২ দিন জেল খেটেছি… হিসাবটা কারো মনে নাই।
বাবার ভিটে মাটি বিক্রি ও পালিত গরু বিক্রি করে আমাকে জামিন করান বাবা। কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু ভাই একবার ঢাকার মামলা হাইকোর্ট থেকে জামিন করতে সহযোগিতা করেন। আল্লাহ উনাকে ভালো রাখুক। প্রতি হাজিরায় নিজের পকেটের টাকা, নিজের রক্ত-ঘাম বিসর্জন দিয়েছি।
আজ আমি বড়ই অসুস্থ। পুরো শরীরের জয়েন্টে ব্যথা। ফুসফুসে সমস্যা, রক্ত বমি হয়। রিমান্ডে যাওয়ার পর থেকে আমার কমরের হাড় ক্ষয় হয়ে গেছে। রাতে ঘুমাতে পারিনা। পুরো শরীরের জয়েন্টের ব্যথা, বুকের ভেতরে অনেক ব্যথা এবং অনেক চাপ অনূভুত হয় সারাক্ষণ।
এমতাবস্থায় আমার খোজ-খবর নেয়ার মতো কেও নেই। নিদারুণ দুঃখ কষ্ট এবং অসুস্থতায় কাছে কাউকে পাচ্ছি না। তাই আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি আমার বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। ধন্যবাদ স্যার।
নেতা, আমি ভিক্ষা চাই না।আমি শুধু আমার ১৬ বছরের ত্যাগের একটু মূল্য চাই। একটু চিকিৎসা, একটু সহানুভূতি, একটু মানুষের মতো বাঁচা। ধানের শীষের কর্মী হয়ে মরতে চাই, এভাবে অসহায়ের মতো না।
আমি আশা করি আপনারা যদি পাশে দাঁড়ান, আমি আবার উঠে দাঁড়াবো ইনশাআল্লাহ।
ইতি,
শরিফ উদ্দিন ইমন
একজন নিবেদিত বিএনপি কর্মী
সাবেক যুগ্ম আহবায়ক
বড়লেখা পৌর ছাত্রদল
সদস্য সচিব- জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, বড়লেখা পৌর শাখা, মৌলভীবাজার।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।