
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই তুলে নিলেন সেঞ্চুরি। তাঁর শতক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ফিফটিতে দ্বিতীয় দিন শেষে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
এর আগে প্রথম দিন হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সাদমান ইসলাম দ্রুত ফিরলেও তানজিদ হাসান তামিম ও মুমিনুল হক দলের ইনিংস সামলে নেন।
প্রথম দিন ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তানজিদ ও মুমিনুল। ১০২ বলে ফিফটি পূরণ করেন তানজিদ। এরপর বাউ ওয়েবস্টারের বলে ৮৮ মিটারের বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে মুমিনুলের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে শতরানের জুটি পূর্ণ করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় শতরানের জুটি। এর আগে ২০০৩ সালে কেয়ার্নস টেস্টে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটার সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেছিলেন। সেই রেকর্ড ভেঙে দেন তানজিদ। কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশি ব্যাটারদের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েন তিনি।
তবে সেঞ্চুরির পথে মুমিনুল হকের সঙ্গে জুটিটি বেশিদূর এগোয়নি। ৯৫ বলে ৪৯ রান করে জশ হ্যাজেলউডের বলে আউট হন মুমিনুল। তাঁর বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন তানজিদ।
এরই মধ্যে ৬২ রানে জীবন পান তানজিদ। স্টিভেন স্মিথের হাতে তাঁর ক্যাচ পড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। মিচেল স্টার্ককে বাউন্ডারি মেরে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের রান ছাড়িয়ে বাংলাদেশকে লিড এনে দেন তিনি।
অন্য প্রান্তে নিজের ফিফটি পূরণ করেতানজিদ হাসান তামিম, তানজিদের সেঞ্চুরি, বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া টেস্ট, বাংলাদেশ ক্রিকেট, টেস্ট ক্রিকেটন শান্তও। তানজিদ ও শান্তর ৯৩ রানের জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করে বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত ১৯৭ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০১ রান করে নাথান লায়নের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ। তাঁর বিদায়ের সময় ৬৫.৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২৩১ রান। এতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৩ রানের লিড পায় সফরকারীরা।
দ্বিতীয় দিন শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ক্রিজে আছেন মুশফিকুর রহিম।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির কীর্তি এখন তানজিদ হাসান তামিমের।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।