
রাজনৈতিক সহিংসতার নির্মম শিকারে পরিণত হয়ে চিরতরে বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর গভীর শঙ্কায় পড়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আলিফ চৌধুরী। হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ শেষে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ সর্বস্তরের মানুষ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) চিকিৎসাধীন আলিফের বাঁ চোখে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সামিয়া নুজহাত জানান, আঘাতের ফলে তার চোখের গোলক (আইবল) ফেটে ভেতরের অংশ বের হয়ে আসে এবং ওপর-নিচের পাতাসহ নেত্রনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গঠনগত মেরামত করা হলেও গুরুতর এই আঘাতের কারণে তার চোখে আলো ফেরার সম্ভাবনা খুব কম। চিকিৎসাধীন আলিফ স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছেন না; ডান চোখ খোলা থাকলেও তা ঝাপসা। হাসপাতালে উপস্থিত এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের কাছে ‘আমার দৃষ্টিশক্তি কি ফিরে আসবে?’ বলে আকুতি প্রকাশ করলেও পরক্ষণেই আত্মসংবরণ করে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেন তিনি। স্থানীয় হোমল্যান্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আলিফ দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে একজন; যার বাবা অসুস্থ এবং মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ব্যাধিতে ভুগছেন।
এদিকে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর এই রক্তক্ষয়ী হামলার জন্য সরাসরি ক্ষমতাসীন বিএনপিকে দায়ী করেছে দলটির নেতারা। জানা গেছে, ঘটনার দিন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলও নিজস্ব কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম সামাজিক মাধ্যমে যুক্তিসংগত বিচারের দাবি তুলেছেন। প্রথম দফায় সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার পর শহরের প্রতিবাদ মিছিলে দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে বহু নেতা-কর্মী আহত হন। জোড়া সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।