
হবিগঞ্জে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে রামদা, হকিস্টিক ও চেইন নিয়ে হামলা চালিয়েছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও হবিগঞ্জ জেলা সম্পাদকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের টাউনহলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা সাতটার দিকে এনসিপির নেতারা মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বহরটি স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে বহরে অতর্কিত হামলা চালান।
হামলার মুখে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িটি দ্রুত সার্কিট হাউসে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তবে পেছনের গাড়িতে থাকা সারজিস আলম ধাওয়া খেয়ে পাশের সোনালী ব্যাংক কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ব্যাংকটি ঘেরাও করে রাখলে পুলিশ রাত আটটার দিকে তাঁকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
হামলার পর আহত কর্মীদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা হাসপাতালের গেটেও দ্বিতীয় দফায় হামলা চালান এবং আহতদের চিকিৎসায় বাধা দেন। দুই পক্ষের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার শিকার সারজিস আলম জানান, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আক্রমণকারীরা একপর্যায়ে গাড়ির ওপর উঠে কাচ ভাঙচুর করে। এতে এনসিপির জেলা সম্পাদকের হাত ভেঙে যায় এবং অন্য এক কর্মীর চোখ গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল কর্মী হকিস্টিক, রামদা ও চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালিয়েছেন। হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, হামলাকারীরা এনসিপির মিডিয়া টিমের ব্যবহৃত ক্যামেরাসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়েছে এবং গাড়িচালকসহ মিডিয়া কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে সংঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, এনসিপির নেতারা সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যের জেরেই স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।