
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন সিলেটের জনপ্রিয় অভিনেতা বেলাল আহমেদ মুরাদ। জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় এবার রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার নাম ঘিরে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরজুড়ে তার শুভেচ্ছা সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
মেয়র পদে আলোচনার এই গুঞ্জন নিয়ে সম্প্রতি সিলেট ভিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন এই অভিনেতা। সেখানে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রার্থিতার বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
পোস্টার ও ফেস্টুন প্রসঙ্গে মুরাদ জানান, এগুলো মূলত তার শুভাকাঙ্ক্ষীরাই করেছেন। প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা একটু স্টাডি করমু, আমরা আরো সবরে লইয়া বইমু। বয়ার পরে কইমু—ইবার অইযিইতো। এটা হইল সারা সিলেটে যে পোস্টার ফেস্টন, এটা কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী।”
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তারুণ্যের জয়গান গেয়ে মুরাদ বলেন, “এখন পরিবর্তনের একটা জোয়ার সৃষ্টি হইছে বা তৈরি হইছে। আপনি যখন বতর্মান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তানরে সবে কইন যে তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি। বিরোধীদলীয় প্রধান নেতা আমিরে জামাতে কইন যে ২০ বছর বয়সী তরুণ যুবক তাইন। সুতরাং আর আমি নিজে ডাইরেক্ট তরুণ।”
নিজের সামাজিক ও সচেতনতামূলক কাজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “অর্থাৎ আমরা সামাজিক কাজ, আমরার পরিবর্তনের অঙ্গীকার। আমার নাটকটা কিন্তু শুধুমাত্র নাটক নায়, আমরার প্রতিটা নাটক একটা মেসেজ। ৬০০ টা নাটক, ৬০০ টা মেসেজ আছে। এই নাটকের চিন্তা থেকে মানুষে মনে করে আমরা বহুত প্ল্যান দেই নাটকের মাধ্যমে। বহুত সমাধান দেই সমাজের। তো এই সমাধান প্ল্যান ইতা দেখিয়া অনেকে মনে করছে যে মুরাদ হয়তো এই এরকম জায়গা আইলে ভালা কিচ্ছু অইবো।
নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে একটি টিম গঠন করেছেন বলে জানান তিনি। মুরাদের ভাষায়, “মানুষে একটু সাহস করার লাগি পিছন থাকিয়া আমার এইগুলা—এই ভালোবাসার মানুষ এগুলা করছইন। যে এইটা লইয়া আমরা বইছি। আমরার শুভাকাঙ্ক্ষী আমরা একটা প্রতিনিধি বা একটা টিম করছি, যে টিমও শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, ইমাম, রাজনীতিবিদ, শিক্ষার্থী, মহিলা—সব আমরা টিম করছি।”
সিলেটের মানুষের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মুরাদ বলেন, “সিটি কর্পোরেশন লইয়া আমরা স্টাডি করমু যে সিটি কর্পোরেশনের জনগণের কিতা হওয়ার দরকার। আমরা মনে করি যে সিটি কর্পোরেশন সব চিন্তা থাকন যে ট্যাক্স দেওয়া লাগবো, ট্যাক্স দেওয়া লাগব। অথচ ট্যাক্সর বিষয়টা হইছে ১৯ নম্বর বা ২০ নম্বর জায়গাত, আগে সেবা।
সিলেটের সন্তান হিসেবে তিনি সবার সাথে বসেই সিদ্ধান্ত নিতে চান। তিনি বলেন, “গুঞ্জন থাকিত সম্ভাবনা তৈরি হয়। আমরা আমার এলাকার মানুষ, আমার প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন—সিলেট নগরী তো আমার সব আত্মীয়স্বজন। আমার মার নানা বাড়ি, আমার নানা বাড়ি, আমার বাড়ি, আমার আত্মীয়স্বজন সব সিলেট। তারারে লইয়া বইমু। বিশেষ করে সবার আগে আমার বন্ধু বান্ধব, আমার ওস্তাহকল এরারে লইয়া বইমু। বয়ার পরে আমরা একটা সুন্দর ডিসিশন জানাইমু।”
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের উদাহরণ টেনে মুরাদ বলেন, “তরুণঅকলরে দিয়া এখন বাংলাদেশের প্রতিটা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের একটা বড় বিষয়। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যদি ক্ষুদিরাম বসুর যে ভূমিকা থাকতে পারে, এত বড় ব্রিটিশ খেদাইতে পারে, আমি তো ত তান প্রায় ডাবল বয়সী—হয়তো আমি আরো বেশি পারমু ইনশল্লাহ।”
নিজের কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী এই অভিনেতা আরও বলেন, “আমার আত্মবিশ্বাস অনেক আগ থাকি। আর আমার লগে সিলেটের মানুষের একটা এইযে অনলাইন ছাড়া অফলাইন একটা সম্পর্ক আছে। আমার বন্ধু বান্ধব, পারিবারিক সম্পর্ক আছে। গ্রহণ করার বিষয়টা হইল অতীতে আমার কাজ আছে, সেবা আছে। তো মানুষের আমরা ব্যতিক্রমভাবে যদি সেবাদিতাম পারি, বুঝাইতাম পারি। তো আমার বিশ্বাস যে মানুষ এখন নিঃসন্দেহে সব থেকে বেশি বিশ্বাস রাজনীতিথাকি বেশি বিশ্বাস করে তরুণ অকলরে।”
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে পরিবর্তনের আশাবাদ ব্যক্ত করে মুরাদ বলেন, “যত মানুষ আছে—মহিলা, পুরুষ, প্রত্যেকটা সেক্টরের মানুষে জানে যে তরুণরাও পারবো। সুতরাং আমি মনে করি যে তরুণ হিসাবে তরুণরা পক্ষ নিলে আর কোন বাধা ইনশল্লাহ অইতো না। প্লাান থাকি বড় পরিবর্তন আর কিচ্ছু হইতে পারে না। সুতরাং প্লাানের প্রতি আমার যেহেতু অতীতে ভূমিকা আছে, হয়তো যদি মানষে চাইন এবং আমি যদি সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে নিতাম পারি আমার সবর লগে বইয়া—ইনশল্লাহ ভালা কিচ্ছু হইব।”
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।