
সিলেটের জকিগঞ্জে নিখোঁজের চার দিন পর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের কোনারবন্দ হাওর থেকে তাঁর পুড়িয়ে দেওয়া মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বুরহান উদ্দিন শফি (৫৯) যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকায় থাকতেন। গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তিনি সিলেট থেকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল। এ ঘটনায় স্বজনরা সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
নিহতের ভাগনে মারজান মাহমুদ রুহি ফেসবুকে এক পোস্টে তাঁর মামার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি একে ‘সুপরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে লিখেছেন, “খুনিরা শুধু তাঁকে হত্যাই করেনি, আলামত নষ্ট করতে লাশটি পুড়িয়ে দিয়েছে।” একজন প্রবাসী কেন নিজ দেশে এসে এভাবে খুন হবেন—সেই প্রশ্ন তুলে রুহি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেছেন।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় কৃষকরা হাওরে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতের শরীরে আগুনে পোড়ানোর চিহ্ন ছিল এবং গলায় দড়ি প্যাঁচানো ছিল। মরদেহের পাশে একটি লবণের প্যাকেটও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করতেই মরদেহটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে। পরে স্বজনরাও মরদেহটি শনাক্ত করেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান,সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা কোন থানায় দায়ের করা হবে সে বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।