
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলনের অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে বালুমহালের ইজারাদার পক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইজারাদার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি জামাল উদ্দিন।
তিনি দাবি করেন, সরকারি বিধিবিধান ও নির্ধারিত শর্ত মেনে বৈধভাবে বালুমহালটি ইজারা নেওয়া হয়েছে এবং সরকার নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ইজারার কোনো শর্ত লঙ্ঘন করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
নদীতে ৫০-৬০টি অবৈধ ড্রেজার চলার অভিযোগ অস্বীকার করে জামাল উদ্দিন বলেন, খাসিয়ামারা নদীতে কোনো ড্রেজার চলছে না। সরকারি রাবারড্যামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারী নৌযান ও বাল্কহেড চলাচল এড়িয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ১৫-২০টি ‘সেইভ মেশিন’ দিয়ে বালু স্থানান্তর করা হচ্ছে। এগুলো ড্রেজার নয় বলে দাবি করেন তিনি।
ইজারাদার পক্ষ জানান, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সনাতন পদ্ধতিতে বালু সংগ্রহ করা হয়। পরে দুপুরের দিকে সেইভ মেশিন চালু করে মাগরিবের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে দিনরাত বালু উত্তোলনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
নদীভাঙন প্রসঙ্গে তারা বলেন, খাসিয়ামারা পাহাড়ি ঢলের নদী হওয়ায় বর্ষায় প্রাকৃতিকভাবেই তীরের কিছু অংশে ভাঙন দেখা দেয়। এটিকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তারা প্রত্যাখ্যান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইজারাদার পক্ষ দাবি করেন, তারা কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। রাবারড্যাম রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের সরেজমিনে পরিদর্শন করে নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইজারাদার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এরশাদুর রহমান মেম্বার, ফারুক মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।