
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন মূল অভিযুক্ত জাকির হোসেন। একই সঙ্গে মামলার অন্য দুই আসামি খালাস পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সিলেটের মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও বিশেষ জজ আবু ওবায়দা আলোচিত এই মামলার চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ৬ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রাম থেকে দিনমজুর রাইসুল হকের চার বছরের শিশুকন্যা ফাহিমা নিখোঁজ হয়। দুদিন পর ৮ মে ভোরে গ্রামের একটি ডোবার ধার থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে আসে, নিহত ফাহিমার প্রতিবেশি চাচা জাকির হোসেন হত্যার পর লাশটি ডোবার পানিতে গুম করার চেষ্টা করেছিলেন। মরদেহ পানিতে না ফেলে ডোবায় পাশেই ফেলে রেখে যান।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে ১১ মে রাতে পুলিশ জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশ ও আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তদন্ত শুরুর মাত্র ১ মাস ৫ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ, যেখানে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে মৃত তোতা মিয়ার অপর দুই ছেলে জয়নাল আবেদীন ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে লাশ গুমের সহায়তার তথ্য দেওয়া হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁদের খালাস প্রদান করেন।
মামলা নিষ্পত্তির গতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিলেট মহানগর আদালতের পিপি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. বদরুল আহমদ চৌধুরী বলেন, মাত্র তিন মাসের স্বল্পতম সময়ের মধ্যে আদালত এই আলোচিত বিচারকাজ সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধান আসামির অপরাধের পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ থাকলেও বাকিদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য না মেলায় তাঁদের খালাস দিয়েছেন বিচারক।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।