
পাঁচ বন্ধু মিলে বাঁধভাঙা আনন্দ নিয়ে সিলেটে ঘুরতে এসেছিলেন। ভ্রমণ শেষে হাসিমুখে বাড়ি ফেরার কথা ছিল, পথ চেয়ে অপেক্ষায় ছিল পরিবারও। তবে সেই আনন্দের মুহূর্ত নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়। কফিনবন্দি হয়ে নিথর দেহে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের সাইফুল ইসলামকে (৫৫)। আর তাঁর সঙ্গে বাসে থাকা অন্য দুই বন্ধু গুরুতর আহত হয়ে লড়ছেন হাসপাতালের বিছানায়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৭ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ইউনিক পরিবহন-এর একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহন-এর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাসই মুহূর্তের মধ্যে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই সাইফুল ইসলামসহ সাতজনের করুণ মৃত্যু হয় এবং আহত হন অন্তত ১৬ জন। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা গেলে এই দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানি দাঁড়ায় ৯ জনে।
দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বুধবার কুলিয়ারচর থেকে পাঁচ বন্ধু সাইফুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, জমরুত মিয়া, মো. রানা ও আব্দুল লতিফ একসঙ্গে সিলেট ভ্রমণে বের হন। কয়েক দিন ঘোরাঘুরি শেষে শুক্রবার সকালে ছিল বাড়ি ফেরার পালা। যাতায়াতের সুবিধার্থে জমরুত মিয়া ও রানা বিমানপথে এবং সাইফুল, ফারুকুল ও লতিফ বাসযোগে কুলিয়ারচরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বিমানে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে জমরুত জানতে পারেন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর। বন্ধুর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তিনি আর ঢাকায় না ফিরে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আব্দুল লতিফ সেই শিউরে ওঠার মতো মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে জানান, সিলেট ছেড়ে আসার ঘণ্টাখানেক পরই বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের সঙ্গে তাঁদের বাসের সরাসরি ধাক্কা লাগে। আঘাতটি বাসের একপাশে বেশি লাগায় ওই অংশের যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হন।
নিহত সাইফুল ইসলাম পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন। পাশাপাশি তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। স্বজনদের কাছে সাইফুলের এভাবে নিথর দেহে ফিরে আসার খবরে পুরো এলাকায় এখন শোকের মাতম চলছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।