
সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর একে একে তাঁদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিকে আহতদের মধ্যে ১৪ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন—সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের তিন বছর বয়সী কন্যা ফাইজা, সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজি সাইফুল ইসলাম (৫০), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে ও বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯),কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন ।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ইউনিক পরিবহনের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ড্যাশক্যামের ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে দুটি বাসই দ্রুতগতিতে চলছিল। ফুটেজে দেখা যায়, ইউনিক পরিবহনের বাসটি কয়েক দফা ওভারটেকের চেষ্টা করে নিজ লেনে ফিরে আসে। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, সামনে থাকা একটি পিকআপ ভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি বিপরীত লেনে চলে আসে। এরপরই ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ ঘটে।
দুর্ঘটনায় আহত কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের বাসিন্দা ফারুক মিয়া জানান, পাঁচ বন্ধু মিলে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন বিমানে ঢাকায় ফিরে গেলেও তিনি, সাইফুল ইসলাম ও আরেক বন্ধু ইউনিক পরিবহনের বাসে রওনা দেন। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার সময় আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। পরে স্থানীয় লোকজন আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমাদের বন্ধু সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।”
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর জানান, দুর্ঘটনার পর ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ১৬ জনকে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনকে ইএনটি, চক্ষু ও নিউরোসার্জারি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি তিনজনের মধ্যে একজনের সিটিস্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে। আরেকজনের সিটিস্ক্যান এখনো সম্পন্ন হয়নি। অপর একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
হাসপাতাল পরিচালক আরও জানান, হাসপাতালে আনা ১৬ জনের মধ্যে একটি শিশুকে প্রথমে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কাজ চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।