
তীব্র শৈত্যপ্রবাহে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গ্রামবাংলার জনজীবন। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে গ্রামাঞ্চলে খড়-কুটো ও শুকনো পাতা জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর দৃশ্য এখন নিত্যদিনের চিত্র। পৌষের শীতে সূর্যের দেখা মিলছে না, ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার জীবনই জবুথবু।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বৈঠাখাই বাজার এলাকায় দেখা যায়, খড়-কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ৭–৮ জন মানুষ ঘিরে দাঁড়িয়ে ও বসে শরীর গরম করছেন। কেউ দোকানের সামনে, কেউ রাস্তার পাশে যেভাবে পারছেন আগুনের তাপ নিচ্ছেন। তীব্র শীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশার কারণে জনসাধারণের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা। শীতবস্ত্র ও খাবারের অভাবে হাজারো দরিদ্র মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার কারণে কৃষকরা সময়মতো পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন সবজিখেতের পরিচর্যা করতে পারছেন না। এতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, আগুন পোহানোর আয়োজন সাধারণত শিশুরাই শুরু করে, তবে তাতে অংশ নেয় সবাই। শীতের সকাল-সন্ধ্যায় আগুন পোহানো গ্রামের পুরনো একটি প্রথা। যদিও এতে আনন্দ থাকলেও ঝুঁকিও কম নয়। প্রায়ই আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হওয়া কিংবা মৃত্যুর খবর সংবাদপত্রে আসে। তারপরও শীতের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে মানুষ বাধ্য হয়েই আগুনের আশ্রয় নিচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শীতের প্রকোপ বেশি হওয়ায় প্রতিদিনই গ্রামের যুবক ও শিশুরা একত্রিত হয়ে আগুন পোহাচ্ছে।
বৈঠাখাই বাজারের ব্যবসায়ী হোসেন আলী বলেন, “তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। প্রচণ্ড শীতে গ্রামের মানুষ চরম বিপর্যস্ত। ঠান্ডাজনিত রোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে রোগীর ভিড় বাড়ছে।” তিনি আরও জানান, কোথাও কোথাও সরকারি উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা আবু সালেহীন খান বলেন, “গ্রামাঞ্চলে শীতে আগুন পোহানো নতুন কিছু নয়। তবে আগুন পোহাতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি জানান, তীব্র শীতে শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।