মূল কনটেন্টে যান
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগের প্রতিবাদে জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন


এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগের প্রতিবাদে জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরায় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা বিএনপি। এ অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি। একই সঙ্গে প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।

লিখিত বক্তব্যে মিলন বলেন, গত ২৭ অক্টোবর বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে স্থানীয় লোকজন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুলকে সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ জানান। তখন তিনি নিজেও সদ্য নির্মিত একটি গার্ডওয়াল হেলে পড়তে দেখেন। এ ছাড়া নিম্নমানের ব্লক ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং মাটির পরিবর্তে কৃষিজমির ওপরের মাটি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

মিলন অভিযোগ করেন, পরদিন ঠিকাদার ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে নির্মাণকাজ পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়ার পরই সাব-ঠিকাদার সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনাকে ‘সংঘবদ্ধ তথ্য সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানান তিনি।

প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলে মিলন বলেন, ৪০ কোটি টাকার প্রকল্পে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। নির্মাণকাজে সাত লাখ ঘনফুট মাটির পরিবর্তে ৫৬ লাখ ঘনফুট মাটি ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, অতিরিক্ত প্রাক্কলনের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়া, নিম্নমানের কাজ বাতিল করে মানসম্পন্ন নির্মাণ নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলা করা প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চলমান সব কাজের অনিয়ম অনুসন্ধান।

এ সময় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, নাদির আহমদ, আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, রেজাউল হক ও আ ত ম মিসবাহসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক বিভাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।