মূল কনটেন্টে যান
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

তাহিরপুরে জমি কেনাবেচার জালিয়াতি ও অপপ্রচারের অভিযোগে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন


মুরাদ মিয়া
তাহিরপুর প্রতিনিধি
তাহিরপুরে জমি কেনাবেচার জালিয়াতি ও অপপ্রচারের অভিযোগে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং এক ব্যক্তি জমি কেনাবেচা নিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. শামছুল হক। ২৮ লাখ টাকা দিয়ে জমি কেনার পরও তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসব ঘটনার আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি ইতোমধ্যে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে সুনামগঞ্জ শহরের একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মো. শামছুল হক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ভারত থেকে আমদানিকৃত কয়লা ও চুনাপাথর মজুত করার জন্য প্রথমে ঝিনাইদহের মোশারফ হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে বাগলী চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতি সংলগ্ন মাঝেরকান্দা এলাকার কলাগাঁও মৌজার ৫৬ শতাংশ জমি সাত বছরের জন্য ভাড়া নেন তিনি। পরবর্তীতে সেখানে পাথর রাখতে গেলে হায়দার সর্দার নামের এক ব্যক্তি বাধা দিয়ে জানান যে মোজাম্মেল হকের কাছে কয়লা বাবদ তাঁর ছয় লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। জমির মালিক মোজাম্মেল হকের পরামর্শেই হায়দার সর্দারের পাওনা পরিশোধ করে বিষয়টি মীমাংসা করেন শামছুল হক। এরপর জমিটি নাসির উদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন মোজাম্মেল হক। কিছুদিন পর নাসির উদ্দিনের কাছ থেকে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে স্ট্যাম্পমূলে ওই জমি কিনে নেন শামছুল হক।

তাঁর দাবি, নিয়ম মেনে জমি ক্রয়ের পর জমির আগের মালিক মোজাম্মেল হক অসৎ উদ্দেশ্যে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একই জমির ওপর কাগজপত্র তৈরি করে নাজমুল হক নামের অন্য একজনের কাছে আবার বিক্রি করেন। এর ফলে এলাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

শামছুল হক বলেন, বৈধভাবে জমি কিনে মালিকানা পাওয়ার পরও গত ২০ অক্টোবর নাজমুল হক ও তাঁর স্বজনেরা তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন। আসছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন—এমন সম্ভাবনায় জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নাজমুল হককে সামনে রেখে তাঁর বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বাগলী চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতির উদ্যোগে একাধিক সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির সভাপতি মো. কামাল হোসেন জানান, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। পর্যালোচনায় শামছুল হক মেম্বারের কাগজপত্রের দাবি আইনি ও দাপ্তরিকভাবে শক্তিশালী বলে প্রতীয়মান হয়। একই জমি দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রির কারণে নাজমুল হকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—এমন বিবেচনায় তাঁকে ১১ লাখ টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার রায় দিয়েছিল সমিতি, যা নাজমুল হক মেনে নেননি।

জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও অপপ্রচারের অভিযোগে মোজাম্মেল হক ও নাজমুল হককে আসামি করে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শামছুল হক। স্থানীয় আমদানিকারক ও সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক ও নাজমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা এ ধরনের ভিত্তিহীন অপপ্রচার বন্ধের দাবি জানান।