আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল সংসারের সবকিছু। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল দিনমজুর ডালু মিয়া ও তাঁর স্ত্রী রুসনা বেগমকে। সেই অসহায় পরিবারের পাশে আবারও দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবিক সংগঠন স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকে। নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও আর্থিক সহায়তা।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের বৃহত্তর আটগ্রাম এলাকার নওয়াগ্রামের পীরকোণা গ্রামের এ পরিবারটি গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারায়। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে তাদের বসতঘর, আসবাবপত্র, চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে যায়। ঘরে থাকা নগদ পাঁচ হাজার টাকাও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন ডালু মিয়া ও রুসনা বেগম।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ২০২৬ সালেই স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকের উদ্যোগে রুসনা বেগমের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছিল ওই ঘর। অগ্নিকাণ্ডে সেই ঘরটিও পুড়ে যাওয়ায় আবারও আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে পরিবারটি।
সিলেটে হাজী রইছ আলী জামে মসজিদের উদ্বোধন, প্রধান অতিথি আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী৩০ অক্টোবর ২০২৬এ অবস্থায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ান স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মাওলানা মুজিবুল ইসলাম তাপাদার। তাঁর উদ্যোগে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নতুন করে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজন বিবেচনায় চৌকি, লেপ-তোষক, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে এসব সহায়তা হস্তান্তর করা হয়। নতুন ঘর ও সংসারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
সহায়তা হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর সিরাজুল ইসলাম তাপাদার সেলিম, লুৎফুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. ছালিক আহমদ চৌধুরী, ইন্সট্রাক্টর দিলীপ কুমার মজুমদার, ইন্সট্রাক্টর শরীফ আহমদ চৌধুরী, কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম. এ. রশিদ বাহাদুর, গোটারগ্রাম ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল বাছিত, জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আহমদ হোসাইন আইমান ও সদস্য জাকির হোসাইনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নতুন ঘর ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেয়ে স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মাওলানা মুজিবুল ইসলাম তাপাদার, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে আবারও ঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, এ উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরিয়ে দেয়নি, নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও জাগিয়েছে।


