মূল কনটেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

২২০৯ দিন পর রায়হান হত্যা মামলায় আকবরের ফাঁসি, রায় ঘোষণার আগেই পলাতক পাঁচ আসামি


উবেদুল্লাহ তালুকদার
স্টাফ রিপোর্টার
২২০৯ দিন পর রায়হান হত্যা মামলায় আকবরের ফাঁসি, রায় ঘোষণার আগেই পলাতক পাঁচ আসামি

সিলেটের আখালিয়ার যুবক রায়হান আহমদকে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ২ হাজার ২০৯ দিন পর বিচারিক আদালতের রায় এসেছে। রায়ে প্রধান অভিযুক্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ ও বরখাস্ত হওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামিসহ সাজাপ্রাপ্ত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই আদালতে অনুপস্থিত ও পলাতক ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের দেওয়া রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলার অন্য আসামীদের মধ্যে বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ফাঁড়ির দ্বিতীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তৎকালীন উপপরিদর্শক মো. হাসান উদ্দিন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী এবং আকবরের আত্মীয় সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় কেবল কারাবন্দী এএসআই আশেক এলাহী বিবাদী কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। মামলার বাকি পাঁচ আসামিই পলাতক রয়েছেন। মামলার নথিপত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে এনে রায়হান আহমদকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার কোতোয়ালি থানায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর পুলিশি হেফাজত থেকে আত্মগোপনে চলে যান আকবর। পরে ওই বছরের ৯ নভেম্বর সিলেট সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২০২১ সালের ৫ মে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কাজ শুরু হয়।
দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ২০২৫ সালের আগস্টে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান প্রধান আসামি আকবর। পরবর্তীতে সেই জামিন স্থগিত করে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি আর হাজির হননি। রায়হানের পরিবারের দাবি, জামিনে বের হয়ে আকবর পুনরায় সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে অন্য পলাতক আসামিদের অবস্থানের গুঞ্জন থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। দীর্ঘ ২ হাজার ২০৯ দিন ধরে আদালতের বারান্দায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া সালমা বেগম রায় শুনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা জামিনে গিয়ে পলাতক হওয়ায় ক্ষোভ জানান। সালমা বেগম বলেন, রায় কার্যকর হতে হলে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে, বিশেষ করে প্রধান অভিযুক্ত আকবরের ফাঁসির দড়ি না ঝোলা পর্যন্ত এই বিচার পূর্ণতা পাবে না।