মূল কনটেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

বাগলী রঙ্গারচরা নদীতে নাব্যতা সংকট,খননের দাবীতে শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত


মুরাদ মিয়া
তাহিরপুর প্রতিনিধি
বাগলী রঙ্গারচরা নদীতে নাব্যতা সংকট,খননের দাবীতে শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বাগলী শুল্ক স্টেশনের একমাত্র রঙ্গারচরা নদীতে নাব্যতা সংকটে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে আশপাশের কয়েকটি উপজেলার হাজারো শ্রমিক খুবই কষ্টে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানববেতর জীবন যাপন করছেন। দ্রুত খননের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে শ্রমিক ও ব্যবসায়িরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে আনলোড সমবায় সমিতির আয়োজনে বাগলী শুল্ক স্টেশন এলসি পয়েন্টে মানববন্ধন কমসূচী পালিত হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,বাগলী রঙ্গারচড়া শুল্ক স্টেশনের বিকল্প সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় নদী পথেই তাদের বাণিজ্যিক যাতায়াত ব‍্যবস্থাই একমাত্র ভরসা। বছরের বর্ষা মওসুমের প্রায় তিন মাস কোনো রকমে শ্রমিকরা বালু-পাথর ও কয়লা নিয়ে নদীতে চলাচল করতে পারে। শুকনা মওসুমে বাকি নয় মাস কর্মসংস্থান না থাকায় কর্মহীন জীবন যাপন করতে হচ্ছে লাখো শ্রমিক ও এলসি ব্যবসায়িদের।

তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাগলী রঙ্গারচরা হতে পাটনাই নদী পযর্ন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার নদী জরুরি ভিত্তিতে খননের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।

একাধিক ব‍্যবসায়ী জানান, বাগলী শুল্ক স্টেশন থেকে পণ্য পাঠাতে না পেরে শত কোটি টাকার লোকসানের মুখে তারা। প্রায় দেড় যুগ ধরে শুষ্ক মৌসুমে পাটলাই নদীতে নৌ-জট দেখা দিলেও এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাটলাই নদীর নৌ-জট নিরসনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পাটলাই এবং রঙ্গারচরা নদীতে পরিকল্পিত গভীর খননের দাবি জানান নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ভারত থেকে ঢলের পানির সাথে ভেসে আসা রাবিস রঙ্গারচরা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের নিজ অর্থায়নে খননের উদ্যোগ নিলে বিজিবি সদস্যরা তাতে বাঁধা প্রদান করে। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরেই নাব্যতা সংকটে রয়েছে রঙ্গারচরা নদী। উপজেলার বড়চড়া, বাগলী, চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে আমদানিকৃত চুনাপাথর, কয়লা উপজেলার রঙ্গারচর-পাটলাই নদী দিয়ে ভৈরব, নারায়ণগঞ্জ,নরসিংদি,ঢাকা,চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় নদী পথে এসব পণ্য পরিবহন সহজ উপায় হিসাবে নৌ-পথ ব্যবহার করেন ব্যবসায়ীরা। বর্ষায় স্বাভাবিক থাকলেও শুকনায় একদিকে যেমন নদীর পানি কমে যায়, অন্যদিকে ভারতের পাহাড় থেকে নেমে আসা পলিতে বছর বছর ভরাট হয় নদীর তলদেশ। এতে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি হয়। এই কারণে নৌ-জট সৃষ্টি হওয়ায় বিপাকে পড়ে কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই নৌকা ও বাল্কহেড। নৌ-জটের কারণে দিনের পর দিন আটকে থাকায় লোকসানের মুখে পড়েন নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।

 

বাগলী শুল্ক স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, বাগলী রঙ্গারচর নদীর তলদেশ একেবারে ভরাট হয়ে গেছে। নদীটি খনন করলে সরকার প্রতিবছর হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে এবং শ্রমিকদের সারা বছরের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

 

বাগলী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান জানান,রঙ্গাছড়া হতে পাটলাই নদী পযর্ন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার খনন করলে আমাদের শ্রমিকরা সারা বছর কাজ করতে পারবে এবং পাটলাই নৌজটের সমস্যার স্থায়ী নিরসন হবে।

বাগলী সমিতির কোষাদক্ষ ব্যবসায়ী হাজী মোঃ আব্দুল আলীম বলেন,পণ্য পরিবহনে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলার তিনটি শুল্ক স্টেশন বড়চড়া, চারাগাঁও,বাগলী দিয়ে আমদানিকৃত কয়লা, চুনাপাথর রঙ্গারচর নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে লোকসানের মুখে পাটলাই নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। গত এক দশক সময় ধরে পাটলাই নদীতে নৌজট সমস্যায় ভুগছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর এই শুল্ক স্টেশন হতে সরকারকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব দিলেও নৌজট নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। গভীরভাবে নদী খননের দাবি জানানো হলেও উপেক্ষিত থাকছে দাবিটি।

বাগলী শুল্ক স্টেশনের সভাপতি মো.কামাল হোসেন বলেন,পাটলাই নৌজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে রঙ্গারচরা-পাটলাই নদী খনন। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় নদী খনন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আমরা একাধিকবার দাবি জানিয়েছি। আশা করবো ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে নদী খননে সরকার খুব দ্রুত উদ্যোগ নেবেন।

তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ সমিতির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ খসরুল আলম বলেন,বাগলী রঙ্গারচরা নদী নাব্যতা সংকটের কারণে বছরের প্রায় ৪/৫ মাস শ্রমিকরা নদীতে কাজ করতে পারে। বাকি ৬/৭ মাস কর্মসংস্থান না থাকায় শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানব বেতর জীবন যাপন করছে। রঙ্গারচরা হতে পাটলাই নদী পযর্ন্ত মাত্র ৭ কিঃমি নদী দ্রুত খননের জন্য সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। সরকারও হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের দীর্ঘদিনের দাবী বাস্তবায়ন করতে স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত মো.এমদাদুল হক বলেন, এ খনন কাজের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএর। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাপস শীল বলেন,কিছুদিন আগে আমি বড়ছড়া,চারাগাও ও বাগলী শুল্ক স্টেশনে সরেজমিন গিয়েছিলাম। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। বাগলী রঙ্গারচরা নদীর নাব্যতা সংকটের স্থায়ী সমাধান হলো

ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে গভীর ভাবে খনন করা গেলে শ্রমিকদের সারা বছরের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়াও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, বাগলী আমদানিকারক সমিতির সহ সভাপতি হামিদুল ইসলাম,সহ-সাধারণ সম্পাদক হাবিবনুর সিদ্দিকী,আনলোড শ্রমিক সমিতির সভাপতি তাহের আলী, শ্রমিক নেতা চান মিয়া,ব্যবসায়ি আনোয়ার হোসেন,আশ্রব আলী,করিম মিয়া,ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন।