‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার লাগি।’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমধ মন্তব্য করতে শোনা গেছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে।
চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার একটি মামলার তদন্তকাজে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সামনে এই কথাগুলো বলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। উপস্থিত এক ব্যক্তির মুঠোফোনে ধারণ করা সেই বক্তব্য পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
তদন্তকাজে গিয়ে এমন মন্তব্যের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে যে, এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন মামলার তদন্তে অর্থ দাবির নানা অনিয়ম ছিল। এর আগে টেকারঘাট গ্রামের একটি শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার মামলার তদন্তকালেও তিনি একপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বাদীপক্ষকে হয়রানি করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব দেখিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি, যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কাতারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কানাইঘাটের ৫ জনের পরিবারের পাশে দুবাই প্রবাসীরা৫ অক্টোবর ২০২৬ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সংবাদকর্মীরা যোগাযোগ করলে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইন বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে ভিডিওটি ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভিডিওটি যাচাই করার পর অভিযুক্ত এএসআইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

