মূল কনটেন্টে যান
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

‘আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন অনেকে’— সিলেটে হারানো আইফোনসহ ৫২ মোবাইল ফিরে পেয়ে আবেগপ্লুত ভুক্তভোগীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক
‘আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন অনেকে’— সিলেটে হারানো আইফোনসহ ৫২ মোবাইল ফিরে পেয়ে আবেগপ্লুত ভুক্তভোগীরা

হঠাৎ প্রিয় মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যাওয়ার সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতা কিংবা দীর্ঘদিন থানায় চক্কর কেটেও আশা ছেড়ে দেওয়া । এমনি এক অনিশ্চয়তার ইতি টানল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। নগরীর বিভিন্ন থানা থেকে জমা হওয়া ৫১০টি সাধারণ ডায়েরি পর্যালোচনা শেষে আইফোনসহ চুরি ও হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মূল্যবান মোবাইল ফোন মূল মালিকদের হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশের ডিবি সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

বৃহস্পতিবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এসএমপি কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনগুলো আসল মালিকদের হাতে তুলে দেন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। শখের ফোনটি ফিরে পেয়ে এ সময় নারী-পুরুষ অনেক ভুক্তভোগীই নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মোট ৩২৬টি হারিয়ে যাওয়া মোবাইল সফলভাবে উদ্ধার করল এসএমপির এই বিশেষ টিম।

আইফোন ১৪ প্রো ফেরত পাওয়া এক ভুক্তভোগী বলেন, ঈদের পর পর মোটরসাইকেলে চলার সময় পকেট থেকে ফোনটা পড়ে যায়। হারিয়ে যাওয়ার পর থানায় জিডি করলেও মনে মনে ফোন পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ পুলিশ যখন ফোন করে বলল আমার ফোনটা উদ্ধার হয়েছে, বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। পুলিশের এমন আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়।

আরেকজন ভুক্তভোগী আবেগপ্লুত হয়ে জানান, গত ১৪ জুন আমার ফোনটি হারিয়ে যায়। এরপর কোতোয়ালী থানায় জিডি করেছিলাম। সময় যত গড়াচ্ছিল আশা তত কমছিল। তবে আজ হাতে ফোন পাওয়ার পর পুলিশের প্রতি আস্থা বহুগুণ বেড়ে গেল।

ঘটনা উদঘাটনের প্রক্রিয়া জানিয়ে এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, প্রযুক্তির সাহায্য, ড্যাশবোর্ডের দক্ষতা এবং ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যের সঠিক মেলবন্ধনেই এই ফোনগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ৫১০টি জিডির তথ্য বিশ্লেষণ করে একের পর এক অবস্থান ট্র্যাক করেই আমরা এই সাফল্য পেয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন কেনাবেচায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। পুলিশ জানায়, অল্প দামে ব্যবহৃত ফোন কেনার ক্ষেত্রে বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্র, ক্রয়ের মূল মেমো এবং মোবাইলের আসল বক্সের আইএমইআই নম্বর মিলিয়ে না নিলে পরবর্তীতে চোরাই মালামাল কেনাবেচার আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়।