
নিজের বোনকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়ার জেরে বন্ধুকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শেরপুর সদর উপজেলার এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শুভ ও তার সহযোগী সম্রাটকে গ্রেফতারের পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। গত মঙ্গলবার বিকেলে শেরপুর ও জামালপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এই দুই অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনে পিবিআই। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি।
হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে বুধবার বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, নিহত আল-আমিনের ডিভোর্সি বোনের সঙ্গে শুভর একটি প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে আল-আমিন শুভকে তার বোনের জীবন থেকে সরে আসতে চাপ দেন। এর কিছুদিন পর শুভ একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজ দেওয়ার জন্য আল-আমিনের কাছে এক লাখ টাকা ধার চান। তখন আল-আমিন টাকা দেওয়ার বিপরীতে পাল্টা শুভর নিজের বোনের সঙ্গে আপত্তিকর সম্পর্কের ইঙ্গিত দেন। নিজের বোনের ব্যাপারে এমন আপত্তিকর প্রস্তাব ও ইঙ্গিত শুনে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শুভ এবং তিনি আল-আমিনকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন। এই কাজ হাসিল করতে শুভ তার সহযোগী সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ করেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৩ মে দুপুরে আল-আমিনকে একটি মোটরসাইকেলে চড়িয়ে সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় গ্রামের একটি নির্জন ঘাসক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আল-আমিন যখন মোবাইল ফোনে মগ্ন ছিলেন, ঠিক সেই সুযোগে শুভ পেছন থেকে রশি দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরেন। একই সময়ে সম্রাট আল-আমিনকে শক্ত করে চেপে ধরলে তিনি আর নড়াচড়া করতে পারেননি। এরপর একটি ধারালো চাকু দিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহটি সেখানেই ফেলে রেখে ঘাতকেরা চম্পট দেয়।
এর আগে গত ১৮ মে ওই ঘাসক্ষেত থেকে একটি মাথাবিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বিকৃত হয়ে যাওয়া মরদেহের পাশে পড়ে থাকা পোশাক ও জুতা দেখে নিহতের বাবা সাইফুল ইসলাম নিজের সন্তান আল-আমিনের পরিচয় শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্তভার হাতে নেয় পিবিআই। গ্রেফতারের পর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই মোটরসাইকেল ও দড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে হাজির করা হলে প্রধান অভিযুক্ত শুভ ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং মামলার বাকি তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।