
গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় করা গেলে গ্রামের ছোটখাটো বিরোধ ও মামলা স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের আদালতগুলোতে মামলাজট কমবে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রাম আদালতের প্রতি আস্থা তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৌলভীবাজারের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রুবেল মাহমুদ।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রম’ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খায়ের বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। চুরি, মারামারি, প্রতারণা, ভয়ভীতি বা হুমকি প্রদর্শন, নারীর শালীনতার অমর্যাদা করার মতো কিছু অপরাধ এবং পাওনা টাকা আদায়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ, ক্ষতিপূরণ ও বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের মতো কিছু দেওয়ানি বিরোধও গ্রাম আদালত আইনে নির্ধারিত এখতিয়ারের মধ্যে নিষ্পত্তি করা যায়।
জেলা তথ্য অফিসার উজ্জ্বল শীল বলেন, গ্রাম আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে। ফলে ছোটখাটো বিরোধের সমাধানের জন্যও মানুষকে দূরের আদালতে যেতে হয়। এতে তাদের সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে পারলে স্থানীয় পর্যায়েই অনেক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
সমাপনী বক্তব্যে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রুবেল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা পরিবর্তনে বিশ্বাসী।’ বর্তমানে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট আর্থিক দাবি বা ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত বিষয়ে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হলে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় মামলার নথি বা আদেশের অনুলিপি সরবরাহ করাও সহজ হবে।
মৌলভীবাজার জেলার গ্রাম আদালত প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার শওকত হাসানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) উম্মে সালিক রুমাইয়া। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আমন্ত্রিত অতিথি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।