
ছোটখাটো বিরোধ ও মামলা স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় এবং আদালতের মামলাজট কমাতে গ্রাম আদালতকে আরও সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রম’ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, সিলেটের উপপরিচালক (উপসচিব) মাহমুদা সুলতানা।
সভায় জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যে বিভিন্ন দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। চুরি, মারামারি, প্রতারণা, ভয়ভীতি বা হুমকি প্রদর্শনসহ নির্দিষ্ট কিছু ফৌজদারি বিরোধ এবং পাওনা টাকা আদায়, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ, ক্ষতিপূরণ ও বকেয়া ভরণপোষণের মতো কিছু দেওয়ানি বিরোধও গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি করা যায়।
তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কে অনেকেরই এখনো স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে স্থানীয়ভাবে সমাধানযোগ্য ছোটখাটো বিরোধ নিয়েও মানুষকে দূরের আদালতে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে পারলে অনেক বিরোধ ইউনিয়ন পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বর্তমানে আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট আর্থিক দাবি বা ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত বিষয়ে আদেশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে মামলা, সাক্ষ্য, সিদ্ধান্ত ও রায়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ সহজ হবে।
গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেন সঠিক পরামর্শ ও তথ্য পায়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, সিলেটের উপপরিচালক মাহমুদা সুলতানা গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সভায় গ্রাম আদালতের এখতিয়ার, মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রাম আদালত-সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬-এর আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমা তিন লাখ টাকা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।