
তিন মাস পর নিজের বসতবাড়িতে ফিরে প্রতিপক্ষের হামলায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন আল আমিন নামে এক পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি।
গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এতে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে (১৯ আগস্ট) দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন শুক্রবার শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিবাদীদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এ ঘটনার জেরে পরদিন শনিবার দুপুরে আব্দুর নুর, লতিফ, তোফাজ্জল ও তাঁদের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ আল আমিনের বাড়িতে ঢুকে হামলা করেন। হামলায় রামদার কোপে গুরুতর আহত হন আল আমিন।
পরে আল আমিনকে উদ্ধার করে নদীপথে নৌকাযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তোফাজ্জল ও তাঁর লোকজন তাতেও বাধা দেন এবং ফের হামলা করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আল আমিনের বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী কান্নায় লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তিনি বলেন, ‘তিন মাস পর বাড়িতে আইছিল, ছেলে-মেয়ের মুখ দেখার জন্য। কিন্তু তা হইল না। আমার চারটি ছোট ছোট সন্তানকে এতিম করে দিয়েছে তোফাজ্জল বাহিনী। নির্মমভাবে কুপিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে।’
নিহতের ভাই জুয়েল মিয়া বলেন, ‘তোফাজ্জল বাহিনী গ্রামের নতুন ত্রাস ও আতঙ্কের নাম। এলাকায় নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে তারা। যেজন্য তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরীহ মানুষকে খুন করতেও দ্বিধা করছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার আগের দিন বালিয়াঘাট নতুন বাজারে এসে উচ্চস্বরে তোফাজ্জল বাহিনীকে বলতে শোনা গেছে, “ক্ষমতা এখন আমাদের হাতে, পুলিশ-প্রশাসন আমাদের বাইরে কিছুই বলবে না, আমরা যেভাবে চাই, গ্রামে তাই হবে।”
সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। চারটি শিশু সন্তান অল্প বয়সেই তাঁদের বাবাকে হারাল। গ্রামে এমন বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।’
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, ঘটনার পরপরই নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তার করতে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।