
তিন দিন আগে বন্ধুদের সঙ্গে সিলেটে বেড়াতে এসেছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাইফুল ইসলাম (৫৫)। ভ্রমণ শেষে স্বজনদের কাছে জীবন্ত বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় সব বদলে গেছে; নিথর দেহে কফিনবন্দি হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাঁকে। একই দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য দুই বন্ধু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও যাত্রীদের সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে সিলেট থেকে ছেড়ে আসে ‘ইউনিক পরিবহন’-এর একটি বাস। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘বেঙ্গল পরিবহন’-এর অপর একটি বাসের সঙ্গে এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাসই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাইফুল ইসলামসহ সাতজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন অন্তত ১৬ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা গেলে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে।
গত বুধবার কুলিয়ারচর থেকে পাঁচ বন্ধু—সাইফুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, জমরুত মিয়া, মো. রানা ও আব্দুল লতিফ একসঙ্গে সিলেট ভ্রমণে আসেন। সফর শেষে শুক্রবার সকালে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে তাঁরা দুই ভাগে ভাগ হন। জমরুত মিয়া ও রানা আকাশপথে ঢাকার টিকিট কাটেন, অন্যদিকে সাইফুল, ফারুকুল ও লতিফ বাসে চড়ে কুলিয়ারচরের উদ্দেশে রওনা হন। বিমানে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে দুর্ঘটনার খবর পান জমরুত মিয়া। খবর পেয়ে তিনি যাত্রা স্থগিত করে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আব্দুল লতিফ জানান, বাসের একপাশে সরাসরি আঘাত লাগায় ওই পাশের যাত্রীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। নিহত সাইফুল ইসলাম পেশায় একজন ঠিকাদার এবং কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।