সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন সন্তানকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। পরে নিজেও বিষপান করেন তিনি। শুক্রবার রাতের এ ঘটনায় মাওয়া (১০), তামিম (৭) ও শামিম (২) নামের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাদাঘাট বাজারে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে নেওয়া হয় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
সেখানকার জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. ফৌজিয়া জানান, রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। শুক্রবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে তিন সন্তান ও তাদের বাবা শরাফত আলীকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা দেখতে পান, হাসপাতালে আনার আগেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শরাফত আলীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শরাফত আলীর আত্মীয় রনু মিয়া জানান, ঘটনার দিন তিন সন্তানকে নিয়ে বড়ছড়া বাজারে গিয়েছিলেন শরাফত। ফেরার সময় তিনি সঙ্গে করে বিরিয়ানি নিয়ে বাড়িতে যান। ওই বিরিয়ানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে সন্তানদের খাওয়ানোর পর নিজেও বিষপান করেছেন বলে ধারণা তাঁর।
রনু মিয়া আরও বলেন, সরফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম তিন দিন আগে সৌদি আরবে যান। তাঁর দাবি, শরাফত মিয়া মাদক ও জুয়ায় আসক্ত।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, তিন শিশুর মরদেহ তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহগুলো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, আশপাশে খোঁজ নিয়ে শরাফত মিয়ার জুয়া ও মাদকে আসক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।


