
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার নান্দিশ্রী গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধা করবুলা বেগম পেয়েছেন এক নতুন অর্ধ পাকা ঘর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশ-এর অর্থায়নে এবং মানবিক সংস্থা লতিফি হ্যান্ডস-এর বাস্তবায়নে নির্মিত এই নতুন ঘর পেয়ে জীবনের শেষ বয়সে এসে মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেয়েছেন নিঃসঙ্গ এই নারী।
স্বামী ও সন্তানহীন করবুলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে একটি ভাঙা ও জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। ঘরের পুরোনো টিনের চালে ছিল অসংখ্য ছিদ্র, চারপাশের টিনের বেড়াও ছিল বেশ ভঙ্গুর। বর্ষাকালে চাল গলে পানি পড়লে ঘরের ভেতরেই ভিজতে হতো তাঁকে। কোনো স্বজন না থাকায় জীবনের এই অনিশ্চয়তা ও কষ্ট একাকীই সহ্য করতে হচ্ছিল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই বৃদ্ধাকে।
জানা যায়, করবুলা বেগমের এই দীর্ঘ করুণ পরিস্থিতিতে গত প্রায় ৩০ বছর ধরে ছায়ার মতো পাশে ছিল সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান লতিফি হ্যান্ডস। আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলীর প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্পের আওতায় তাঁকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছিল, যা দিয়ে এতদিন কোনোমতে টিকে ছিল তাঁর জীবনধারণ।
অবশেষে এই অসহায় বৃদ্ধার কষ্টের স্থায়ী সমাধান হিসেবে তাঁর জন্য নতুন বাসস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জেনিয়াভিত্তিক সংগঠন ‘ডালাস ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশন এর আর্থিক সহায়তায় লতিফি হ্যান্ডস-এর তত্ত্বাবধানে করবুলা বেগমের জন্য তৈরি করে দেওয়া হয়েছে নীল ও সবুজ টিনে সাজানো একটি অর্ধ পাকা ঘর। পুরোনো জীর্ণ চালা ছেড়ে নতুন রঙিন ঘরে উঠে এখন জীবনের শেষ দিনগুলোতে পরম স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি পাচ্ছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী করবুলা বেগম।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।