
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে খালের পাড় ভেঙে একটি বসতঘর ধসে পড়েছে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় ঘরের ভেতরে রশি দিয়ে বাঁধা থাকা রুবেল মিয়া (৩০) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ প্রায় ৭ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা বিধ্বস্ত ঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ওই যুবকের মরদেহ বের করতে সক্ষম হন। আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড়দল পুরানহাটি এলাকার মাঝের খালে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত রুবেল মিয়া বড়দল পুরানহাটি এলাকার বাসিন্দা বশিরুল হকের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, রুবেল দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। তার নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে পরিবারের লোকজন তাকে সবসময় ঘরের ভেতরে রশি দিয়ে বেঁধে রাখতেন। সোমবার সকালে পাহাড়ি ঢলের পানি বড়দল মাঝের খাল দিয়ে প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হতে শুরু করে। একপর্যায়ে পানির তীব্র টানে খালের পাড় ভেঙে গেলে এর পাশেই অবস্থিত বশিরুল হকের ঘরটি খালে ধসে পড়ে। ঘরের ভেতরে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও ঘরের একটি খুঁটির সঙ্গে বাঁধা থাকায় রুবেল মিয়া বের হতে পারেননি এবং ঘরসহ পানির নিচে তলিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাপক তল্লাশি চালানোর পর বিকেল ৪টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে ভেঙে পড়া ঘরের খুঁটির নিচ থেকে রুবেল মিয়ার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর নিখোঁজ রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।