মূল কনটেন্টে যান
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

বিদায়বেলায় ডিসি সারওয়ার আলমের মানবিকতা, মুক্ত হচ্ছেন চা-শ্রমিক মঙ্গল দাস ‎


নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদায়বেলায় ডিসি সারওয়ার আলমের মানবিকতা, মুক্ত হচ্ছেন চা-শ্রমিক মঙ্গল দাস  ‎

‎সিলেট থেকে প্রত্যাহারের সরকারি আদেশ পাওয়ার দিনেও এক অসহায় চা-শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দী থাকা মঙ্গল দাস অবশেষে জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে মুক্তির আলো দেখছেন।

‎গতকাল রোববার (২১ জুন) বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বিদ্যুৎ আদালতের বিচারক আনোয়ারুল কবির ওই শ্রমিকের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, জামিনের আদেশনামা ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

‎সিলেট ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে জেলা প্রশাসকের এই মানবিক পদক্ষেপের কারণেই অবসান ঘটছে এক দরিদ্র চা-শ্রমিকের দীর্ঘ কারাজীবনের। আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিমানবন্দর এলাকার কেওয়াছড়া চা বাগানের বাসিন্দা বিরাশ দাসের ছেলে মঙ্গল দাস বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া শোধ করতে না পারায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম দফায় গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ সময় হাজতবাসের একপর্যায়ে কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের নজরে আসেন তিনি। মঙ্গল দাসের অসহায়ত্বের কথা শুনে ওই সময় জেলা প্রশাসক তাকে অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে গত ১১ মার্চ বিদ্যুৎ আদালতের বিচারক আনোয়ারুল কবির তাঁর জামিনের আদেশ দিলে পরদিন ১২ মার্চ তিনি কারামুক্ত হন।

‎তবে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেও মূল বকেয়া টাকা পরিশোধ না হওয়ায় গত ২২ এপ্রিল বিদ্যুৎ আদালতের বিচারক পুনরায় মঙ্গল দাসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর জের ধরে গত ১৭ জুন বুধবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ তাকে আবারও গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। বিদায়ের প্রাক্কালে বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল রোববার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বকেয়া ২০ হাজার টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক।

‎বিদ্যুৎ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. উজ্জ্বল মিয়া এই বিষয়ে জানান, বকেয়া বিল পরিশোধের পর আদালত থেকে জামিনের আদেশ দিয়ে মঙ্গল দাসকে মুক্তির লক্ষ্যে জামিননামা ইতিমধ্যে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

‎উল্লেখ্য, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে সম্প্রতি বদলি করা হয়েছে। গতকাল রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের ডেপুটি কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। সরকারি ওই প্রজ্ঞাপনে এই প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।