
সিলেটের মানুষের আবেগ, বিশ্বাস আর ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার। প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন এই পবিত্র প্রাঙ্গণে, পরম শ্রদ্ধায় দান করেন নগদ অর্থ থেকে শুরু করে মূল্যবান সামগ্রী। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ দানের টাকা কোথায় যায়, কীভাবে খরচ হয়—তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের কৌতূহল ও অস্পষ্টতা ছিল। অবশেষে মাজারের সেই অর্থ ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনতে এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল চারটার দিকে জেলা প্রশাসনের একটি দল মাজার প্রাঙ্গণে বিশেষ অভিযান চালায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে মাজারের ঐতিহ্যবাহী তিনটি বড় দানের ডেক সিলগালা করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া দানের প্রতিটি টাকা যেন সঠিক নিয়মে ও সঠিক জায়গায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা বলেন, ‘মাজারে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দান সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও দায়বদ্ধতার মধ্যে আনতেই আমাদের এই পদক্ষেপ। এখন থেকে সাধারণ মানুষের দেওয়া সব দান সরাসরি প্রশাসনের এই বাক্সগুলোতেই জমা হবে এবং এর ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।’ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে একটি মূল বড় বাক্সসহ কয়েকটি ছোট দানবাক্স বসানো হয়েছে। আর এই পুরো ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে আনসার সদস্যদের।
এর আগে, গত শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর বেলা দেড়টার দিকে আকস্মিকভাবে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। সে সময়ই মূলত দুই মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাবকে একটি নিয়মের মধ্যে আনতে প্রাথমিকভাবে মাজারের দানবাক্সগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
সেদিনের সেই উদ্যোগের কথা স্মরণ করে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘সিলেটের দুটি বড় ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক স্থান হলো হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, মানুষের এই পরম বিশ্বাসের জায়গা দুটিকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় এনে সর্বসাধারণের কাছে এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। বর্তমানে আমরা এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাজারের সার্বিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য মাজার ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
শত শত বছর ধরে সিলেটের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শাহজালাল ও শাহপরানের নাম। পর্যটক কিংবা সাধারণ ভক্ত এখানে এসে মনের টানে সোনা-দানা, গবাদিপশু কিংবা নগদ টাকা দান করাটা একটা নিয়মিত চিত্র। প্রতিদিনই এখানে লাখ লাখ টাকা জমা পড়ে। কিন্তু এই অর্থের কোনো আনুষ্ঠানিক বা প্রকাশ্য হিসাব না থাকায় সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের অধিকার সচেতনতার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। জনসাধারণের সেই দীর্ঘদিনের চাওয়াকে সম্মান জানিয়ে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা ও অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই মূলত জেলা প্রশাসনের এই প্রশংসনীয় পদক্ষেপ, যা মাজারের সার্বিক পরিবেশকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।