
পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই সিলেটে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাছ, মাংস ও ফলমূলসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং ও মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাধারণ ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। ফলে নগরীর বাজারগুলোতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নগরভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় পোল্ট্রি মুরগির দাম ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে তার প্রতিফলন নেই। একইভাবে গরুর মাংসের দাম ৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে। ওই সভায় মহিষের মাংস ৬৫০ টাকা, খাসির মাংস ১১০০ টাকা, ছাগল ও ভেড়ার মাংস ১০০০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে অনেক দোকানেই অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ইফতার সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজারেও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লেবুর দাম; এক সপ্তাহ আগে যে লেবুর হালি ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, তা এখন কয়েক গুণ বেড়ে ৯০ থেকে ১২০ টাকায় ঠেকেছে। কলার হালি বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। এছাড়া শসার দাম দ্বিগুণ হয়ে বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য পাইকারি বাজারে দর বৃদ্ধিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন।
এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয় রিকাবীবাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রির দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার জানিয়েছেন, রমজানে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।