মূল কনটেন্টে যান
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

৪৭-এর গণভোটে স্বাধীন মুসলিম সত্তাকে বেছে নিয়ে জকিগঞ্জের মানুষ ইতিহাস গড়েছিল: মামুনুল হক


নিজস্ব প্রতিবেদক
৪৭-এর গণভোটে স্বাধীন মুসলিম সত্তাকে বেছে নিয়ে জকিগঞ্জের মানুষ ইতিহাস গড়েছিল: মামুনুল হক
ছবি : সবুজ প্রান্ত

বাংলাদেশের আবহমান কাল ধরে চলে আসা সমাজ, ধর্ম ও রাজনীতির ইতিহাসে জকিগঞ্জকে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আবহমান কাল থেকে চলে আসা সমাজ ধর্ম ও রাজনীতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস জড়িত রয়েছে অনেক অসাধারণ এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের মাইল ফলক হল এই জকিগঞ্জ। ১৯৪৭ সালে যখন দেশ বিভক্ত হয় তখন এই অঞ্চল এবং এই অঞ্চলের মানুষ গণভোটের মাধ্যমে ইসলাম এবং মুসলিম জাতির জন্য স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য তারা ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল। সচেতন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা প্রতিবেশী বৃহৎ হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রের সাথে নিজেদের ভাগ্যকে জড়িয়ে না নিয়ে। ছোট ক্ষুদ্র কিন্তু ইসলাম এবং মুসলিম জাতি সত্তার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নকে জড়িয়ে দিয়েছিল। সেই সকল পূর্বসূরীদের প্রতি আজকের এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তাদের সেদিনের সেই সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আজকে বাংলাদেশের প্রান্তিক অঞ্চল হয়েও যুকিগঞ্জ আজকে বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনভূমি। স্মরণ করছি যাদের জন্ম এবং কর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে জলজল করছে।”

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টায় সিলেটের জকিগঞ্জ পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জকিগঞ্জ উপজেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে জুলাই সনদ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে খেলাফত মজলিসের আমীর স্পষ্ট করেন যে, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কেবল ক্ষমতার পালাবদল বা একটি দলের পরিবর্তে অন্য দলকে ক্ষমতায় বসানো ছিল না। আন্দোলনকারী শহীদদের প্রধান স্বপ্ন ছিল ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রমুক্ত, বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা, যার জন্য রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। তিনি জানান, ৩৩টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ নয় মাসে ৮৩টি অধিবেশনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করেছে। এই সনদে ক্ষমতার ভারসাম্য ও বিকেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের দলীয়করণ রোধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থাসহ বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা এখন বাস্তবায়নের দাবি রাখে।

গণভোটের রায় প্রসঙ্গে বক্তা বলেন, একই দিনে একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং উভয় ভোটের ফলাফলও ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে জনগণই তার সঠিক জবাব দেবে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিল না, সংসদ সদস্যের শপথ ঠিকই নিল। কারণ, সংসদ সদস্যের শপথ নিলে এমপি হওয়া যাবে, মন্ত্রী হওয়া যাবে। আর মন্ত্রী হওয়া গেলে বিদেশে বেগমপাড়া করা যাবে, চাঁদাবাজি করা যাবে, লুটপাট করা যাবে। গণভোটের শপথ নিলে দলীয় ক্ষমতার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তারেক জিয়া নতুন করে শেখ হাসিনা হতে পারবেন না।”

জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, দেড় হাজারের মতো মানুষের আত্মত্যাগ এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য—বৈষম্য ও স্বৈরতন্ত্রমুক্ত নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা—বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অঙ্গীকার দ্রুত পূরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শায়খ মোস্তফা আহমদের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আফসার জিহাদির সঞ্চালনায় সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এতে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল কারীম জালালী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতা উল্লাহ আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ মহসিনুল হাসান এবং সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইকবাল হুসাইন।