২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে জাতীয় পর্যায়ে পাসের হার কমেছে। সিলেট শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেও গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে। এর মধ্যে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে হাফছা মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদ্রাসা। এইচএসসিতে হাফছা মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের পাসের হার ৭৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। অন্যদিকে, আলিমে বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদ্রাসার পাসের হার ৭৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
এ বছর সারা দেশে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬০২।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষায় পাসের হার ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী। গত বছর পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৪ হাজার ২৬৮ জন। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে এইচএসসি ও আলিম, উভয় পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে।
জকিগঞ্জের কলেজভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাফছা মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন পাঁচজন শিক্ষার্থী। পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বারহাল কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭০ দশমিক ০৬ শতাংশ। তবে এ কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে গুরসদয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। ইছামতি কলেজের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনজন শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া শেরুলবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৪০ দশমিক ৭৪ শতাংশ, জকিগঞ্জ সরকারি কলেজের ৩৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ, লুৎফর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, গণিপুর কামালগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং গোলাম মোস্তফা চৌধুরী একাডেমির পাসের হার ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। জকিগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে, শেরুলবাগ, লুৎফর রহমান, গণিপুর কামালগঞ্জ ও গোলাম মোস্তফা চৌধুরী একাডেমি থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
অন্যদিকে, আলিম পরীক্ষায় মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬১ জন। পাসের হার ৭৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থী এ+ পেয়েছেন।
গঙ্গাজল হাসানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে ৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৫ জন। পাসের হার ৪৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও একজন শিক্ষার্থী এ+ পেয়েছেন।
ইছামতি দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা থেকে ৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩২ জন। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। তবে এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ এ+ পাননি। অন্যদিকে, জকিগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৩ জন। পাসের হার ২১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থী এ+ পেয়েছেন।
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এইচএসসিতে হাফছা মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং আলিমে বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদ্রাসা পাসের হারে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।



