একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাস কেবল তার প্রতিষ্ঠাকাল কিংবা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সেই ইতিহাসের বড় অংশজুড়ে থাকেন শিক্ষক, যাঁদের জ্ঞান, শ্রম ও আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। সিলেটের জকিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ইছামতি দারুল উলুম কামিল (এম.এ) মাদ্রাসার এমন ১০৪ জন সাবেক শিক্ষকের জীবন ও অবদান সংরক্ষণ করতে প্রকাশিত হচ্ছে স্মারকগ্রন্থ ‘আত-তাযকিরাহ’।
মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সাবেক শিক্ষকদের জীবনী নিয়ে গ্রন্থটি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে আল-হাবীব ফাউন্ডেশন। প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক কবি মাওলানা আব্দুল আউয়াল হেলালের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি গ্রন্থটির প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করছে। আগামী ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি সকাল ১০টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্মারকগ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এতে জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষাবিদদের অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
প্রকাশনা অনুষ্ঠান সফল করতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জকিগঞ্জের রারাই গ্রামে অবস্থিত আল-হাবীব গ্রন্থাগার মিলনায়তনে বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও হবিবপুর কেশবপুর সুন্নি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাকিম। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব মাওলানা মুহিবুর রহমান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী মাওলানা এমাদ উদ্দিন, আটগ্রাম আমজাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুস সবুর, জকিগঞ্জ ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসার সাবেক আরবি প্রভাষক মাওলানা নজরুল ইসলাম, ফেঞ্চুগঞ্জ মোহাম্মদিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হাফিজ মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব, চান্দ্রগ্রাম ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী, শায়খুল হাদীস আল্লামা হাবিবুর রহমান মুহাদ্দিস ছাহেব (রহ.)-এর কনিষ্ঠ সাহেবজাদা মাওলানা আব্দুল বাক্বী খালেদ, সোনাপুর মাজহারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা কুতবুল আলম এবং জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক জুবায়ের আহমদসহ কমিটির সদস্যরা।
সভা শেষে প্রকাশনা বাস্তবায়ন কমিটির নেতারা জকিগঞ্জ ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এখলাছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাকিম, সদস্যসচিব মাওলানা মুহিবুর রহমান, উপাধ্যক্ষ মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী, প্রভাষক মাওলানা ফারুক আহমদ, সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাওলানা ফদ্বলুর রহমান প্রমুখ।
প্রতিষ্ঠানটির গৌরবময় ইতিহাস :
১৯৪৭ সালে প্রখ্যাত আলেম হযরত মাওলানা মুতিউর রহমান চৌধুরী ইছামতি দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার ভিত্তি স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ ও মুজাদ্দিদে জামান শামসুল উলামা হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি বিকশিত হয়। দীর্ঘ পথচলায় দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য শিক্ষার্থী ও আলেম গড়ে তুলেছে।
মাদ্রাসাটির পরিচিতি ও খ্যাতি বিস্তারে বিশেষ অবদান রেখেছেন এর সাবেক অধ্যক্ষ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক বিচারপতি ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ শায়খুল হাদীস আল্লামা হাবিবুর রহমান (মুহাদ্দিস ছাহেব)। এ ছাড়া দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটিতে হাদিসের পাঠদান করেছেন মুর্শিদে বরহক, উস্তাদুল কুররা ওয়াল মুহাদ্দিসিন আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী।
সেই দীর্ঘ শিক্ষাধারার সঙ্গে যুক্ত ১০৪ জন সাবেক শিক্ষকের জীবন ও অবদান এক মলাটে তুলে ধরার উদ্যোগ হিসেবে ‘আত-তাযকিরাহ’ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশিত হলে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিক্ষকদের অবদান তুলে ধরার একটি স্থায়ী দলিল তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।



