মূল কনটেন্টে যান
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

জকিগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ, মামলা আদালতে

অভিযোগ অস্বীকার করে রাজনৈতিক বিরোধের কথা বললেন অভিযুক্ত, ইউপি সদস্যের দাবি সালিস নিয়ে বিরোধ


জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক
জকিগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ, মামলা আদালতে
জকিগঞ্জ উপজেলার ১নং চক কোনাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে চাকুরি করেন ফারহানা বেগম
জকিগঞ্জে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও তাঁর স্বামীকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা। বর্তমানে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবে অভিযুক্ত সাবুল আহমদ অভিযোগ অস্বীকার করে একে পরিকল্পিত হয়রানি বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, অভিযোগকারী শিক্ষিকার স্বামী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিফতাউল হক বলছেন, এলাকার বিভিন্ন সালিসে বিরোধের জেরেই তাঁর পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তের বিরোধ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারী ফরহানা বেগম জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের বারাকুলি (চক) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ১নং চক কোনাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁর স্বামী মিফতাউল হক বারহাল ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। অভিযুক্ত সাবুল আহমদ (৩৫) একই গ্রামের বাসিন্দা।
জকিগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ফরহানা বেগম উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার বিভিন্ন বিরোধের সালিসে অংশ নেন। এসব সালিসে সাবুল আহমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটার সময় একটি কালভার্টের সামনে সাবুল আহমদ তাঁকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফরহানা বেগমের আরও অভিযোগ, তাঁর স্বামী আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁকে হাটবাজার, রাস্তাঘাট কিংবা নির্জন স্থানে পেলে হত্যা করার হুমকি দিয়েছেন সাবুল আহমদ। কর্মস্থলে যাতায়াতের পথেও তাঁকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করেও তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে উদ্দেশ করে অশালীন কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ফরহানা বেগম।
এসব ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশের কাছে আইনগত প্রতিকার চান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবুল আহমদ। তাঁর দাবি, মিফতাউল হক আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দিলে বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে সাবুল এর প্রতিবাদ করেন। এরপর থেকে মিফতাউল হকের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সাবুল আহমদের অভিযোগ, মিফতাউল হক তাঁকে বালু-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছিলেন। ওই মামলায় তাঁকে কিছুদিন কারাগারেও থাকতে হয়। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর মিফতাউল হকের বাড়িতে কাজ করা এক নারী তাঁর কাছে অভিযোগ করেন, মিফতাউল হক তাঁর স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ওই নারীকে অশালীন প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং তাঁর শ্লীলতাহানি করেছিলেন। ওই নারী তাঁর অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর কাছে অভিযোগ করেছিলেন বলে দাবি করেন সাবুল।
তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে মিফতাউল হককে উদ্দেশ করে কিছু কথা বলেন, যা এখনো তাঁর ফেসবুক আইডিতে রয়েছে। তাঁর দাবি, এর জের ধরে মিফতাউল হক ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর স্ত্রীকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মামলা করিয়েছেন। মিফতাউল হকের এক চাচাতো ভাই সিলেট জজকোর্টের আইনজীবী উল্লেখ করে সাবুল দাবি করেন, ওই আইনজীবীর পরামর্শে তাঁকে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে।
তবে নারীকে হয়রানি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নারীর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
সাবুল আহমদের অভিযোগের বিষয়ে মিফতাউল হক বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আমার কাছে আসে। সালিস-বিচারে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হয়েছে। এ কারণে তিনি আমার ওপর ক্ষুব্ধ।”
মিফতাউল হক আরও বলেন, সাবুল আহমদ তাঁর স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রীকে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, যা মামলার অভিযোগেও উল্লেখ রয়েছে। সাবুল নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জকিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোর্শেদ বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে তদন্ত করেছি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ওই ম্যাডামকে আদালতে আসার জন্য বলেছি। আশা করি, এর একটা বিহিত ব্যবস্থা হবে।”