মূল কনটেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

দুজন শিক্ষকের কাঁধে ৪৮৬ ছাত্রীর ভবিষ্যৎ, জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট

জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরে প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা


উবেদুল্লাহ তালুকদার
স্টাফ রিপোর্টার
দুজন শিক্ষকের কাঁধে ৪৮৬ ছাত্রীর ভবিষ্যৎ, জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট
ছবি : সংগ্রহকৃত

সিলেটের জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ৪৮৬ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানে নিয়োজিত আছেন মাত্র দুজন শিক্ষক। শিক্ষক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলেও। জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরে প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ৫৭ বছরের পুরোনো এ প্রতিষ্ঠানে ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক।

শিক্ষাপঞ্জির ৯ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের ক্লাস পায়। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা দুজন শিক্ষকের একজন ইসলাম শিক্ষার হলেও অন্য বিষয়গুলোর পাঠদান সামলাতে হচ্ছে তাঁকেই। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি টিফিনের সময়েও পাঠদান করতে হচ্ছে তাঁদের।

পরিস্থিতি সামলাতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা নিজেদের উদ্যোগে কয়েকজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। এতে অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ছে। এর পাশাপাশি জেলা শহর থেকে দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় বিদ্যালয়ে পদায়ন পাওয়া শিক্ষকেরা তদবির করে অন্যত্র বদলি হয়ে যান। চলতি বছরই তিনজন শিক্ষক এই বিদ্যালয় থেকে বদলে গেছেন।

‎শিক্ষক সংকটের প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও। ২০২১ সালে বিদ্যালয়টিতে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক ও বিজ্ঞান মিলে মোট অনুত্তীর্ণের সংখ্যা ছিল ৮ জন। তবে ২০২৪ সালে অনুত্তীর্ণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ জনে এবং ২০২৫ সালে তা হয় ২৮ জন। ২০২৬ সালেও মানবিক বিভাগে ৪১ জন শিক্ষার্থী পাস করলেও ২৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে; ২০২৪ সালে মানবিকে ৫৯ জন পাসের বিপরীতে ২৬ জন এবং ২০২৫ সালে ৪১ জন পাসের বিপরীতে ২৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়।

‎স্কুলে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভর হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। তবে এলাকার অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের পক্ষে অতিরিক্ত এই ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে এবং দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের ঝরে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।