মূল কনটেন্টে যান
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

ইতিহাসের সাক্ষী গায়েবি মসজিদ কি হারিয়ে যাবে নতুন ভবনের আড়ালে?


ওসমানীনগর প্রতিনিধি
ইতিহাসের সাক্ষী গায়েবি মসজিদ কি হারিয়ে যাবে নতুন ভবনের আড়ালে?
ওসমানীনগর উপজেলার উসমানপুর গ্রামের এক গম্বুজ বিশিষ্ট গায়েবি মসজিদ

সিলেটের ওসমানীনগরে সুলতানি আমলের বলে পরিচিত প্রাচীন এক গম্বুজবিশিষ্ট গায়েবি মসজিদ ভেঙে নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা এই স্থাপনা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের উদ্যোগে গঠিত একটি নাগরিক প্রতিনিধি দল। মসজিদটির ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মসজিদটি পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ সংরক্ষণের উদ্যোগ না নেওয়া হলে সিলেটের প্রাচীন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শনটি হারিয়ে যেতে পারে।

মসজিদটির অবস্থান ওসমানীনগর উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের উসমানপুর গ্রামে, তাজপুর-বালাগঞ্জ সড়কের পাশে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিত। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের ধারণা, মসজিদটি প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ বছর আগে নির্মিত। এর স্থাপত্যরীতি দেখে এটিকে সুলতানি আমলের স্থাপনা বলে মনে করা হয়। তবে মসজিদটির সুনির্দিষ্ট নির্মাণকাল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিনিধি দল জানতে পারে, এলাকার কিছু ব্যক্তি প্রাচীন মসজিদটির স্থানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করতে চাইছেন। তবে এ উদ্যোগের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, মসজিদটির ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি না করায় এরই মধ্যে স্থাপনাটির ক্ষতি হয়েছে। মসজিদের মেহরাব ও দেয়ালে রঙিন টাইলস বসানোর সমালোচনা করে তাঁরা বলেন, এ ধরনের পরিবর্তন প্রাচীন স্থাপনার মূল স্থাপত্যবৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।

তাঁদের মতে, ঐতিহাসিক স্থাপনাটির ক্ষতিসাধন করে নতুন ভবন নির্মাণের চিন্তা উদ্বেগজনক। প্রাচীন এই মসজিদ কেবল ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং সিলেট অঞ্চলের ইতিহাস, স্থাপত্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। সময়ের পরিক্রমায় টিকে থাকা এমন একটি স্থাপনা হারিয়ে গেলে তা হবে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হারিয়ে যাওয়ার শামিল।

মসজিদটি ওয়াক্‌ফ প্রশাসনের তালিকাভুক্ত হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত নয়। সিলেটে টিকে থাকা প্রাচীন এই স্থাপনা সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিনিধি দল।

তাঁদের ভাষ্য, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এলাকার ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা মসজিদটি রক্ষায় এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে স্থাপনাটির প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব নিরূপণ করে যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।

পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিলেট প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম, সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট মনির হেলাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী দিপন এবং প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আসিফ আজহার।