
সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানির তালিকায় যুক্ত হলো আরও দুই শিশুর নাম। গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তারা। এতে করে চলতি বছরে বিভাগে রোগটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১৩ জনে। এই একই সময়ে ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন করে আরও ১৩ জনের শরীরে রোগটির সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এছাড়া, কেবল গত একদিনেই লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৭৭ জন।
শনিবার (১ আগস্ট) এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম।
হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সাম্প্রতিকতম এই প্রাণহানির ঘটনা দুটির একটি ঘটেছে নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় দক্ষিণ সুরমা এলাকার ১৫ মাস বয়সী শিশু রাইসা। অপর দুর্ঘটনাটি ঘটে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে ১০ মাস বয়সী অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত পুরো বিভাগে ল্যাব টেস্টে মোট ৬৬২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৩৩২ জন, সিলেটে ২২০ জন, হবিগঞ্জে ৬২ জন (যার মধ্যে দুজন রুবেলা আক্রান্ত) এবং মৌলভীবাজারে ৪৮ জনের শরীরে সংক্রমণ মিলেছে।
বিভাগে রোগটির উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টার হিসাব অনুযায়ী, নতুন আসা ৭৭ জন রোগীর বড় একটি অংশ ভর্তি হয়েছে সিলেট শহরের বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে। যার মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩৮ জন এবং ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২১ জন চিকিৎসাধীন। এছাড়া মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১২ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৫ জন এবং রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন নতুন রোগী নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বিভাগের সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে লক্ষণযুক্ত অন্তত ২৮৬ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরকারি বিশেষায়িত সেন্টারগুলোর পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিভিন্ন ট্রাস্ট বা বেসরকারি হাসপাতালেও ভর্তি রাখা হয়েছে আক্রান্তদের।
মৃতের হিসাব বিশ্লেষণ করে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানায়, মোট ১১৩ জন প্রাণহানির সিংহভাগই মারা গেছে মূল উপসর্গ নিয়ে। পূর্বের ১১১ জন মৃতের মধ্যে জেলাভিত্তিক বিভাজন হলো—সুনামগঞ্জে ৪৮ জন, সিলেটে ৩৯ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১১ জন।
সার্বিক হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন। শিশুদের যথাসময়ে প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার পাশাপাশি শরীরে জ্বর কিংবা র্যাশের মতো প্রাথমিক আলামত দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।