মূল কনটেন্টে যান
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

ভাষাসৈনিক মতিন উদ্দীনের জন্মভিটা জকিগঞ্জে নেই তাঁর কোনো স্মৃতিচিহ্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক
ভাষাসৈনিক মতিন উদ্দীনের জন্মভিটা জকিগঞ্জে নেই তাঁর কোনো স্মৃতিচিহ্ন

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কয়েক বছর আগেই সিলেটে রোপিত হয়েছিল ভাষা সংগ্রামের বীজ। সেই আন্দোলনের নেপথ্য কারিগর ও অন্যতম সংগঠক ছিলেন জকিগঞ্জের কৃতি সন্তান ভাষাসৈনিক মতিন উদ্দীন আহমদ। ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে সিলেটে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আয়োজিত প্রথম দুটি ঐতিহাসিক সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। অথচ ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর জন্মভূমি জকিগঞ্জে এই বীরের স্মৃতি রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গড়ে ওঠেনি কোনো লাইব্রেরি কিংবা স্মৃতিস্তম্ভ।

‎১৯০০ সালে জকিগঞ্জের আটগ্রামে জন্মগ্রহণ করা মতিন উদ্দীন আহমদ ছিলেন একাধারে সরকারি কর্মকর্তা, প্রাবন্ধিক ও শৌখিন সংগ্রাহক। সরকারি উচ্চপদে কর্মরত থেকেও তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়ে তাঁর পদোন্নতিও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অথচ আক্ষেপের বিষয় হলো, নিজ জন্মভূমিতে এই ভাষা সংগ্রামী আজ অনেকটা উপেক্ষিত।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে এই ভাষাসৈনিকের পরিচয় তুলে ধরার মতো জকিগঞ্জে কোনো স্থাপনা নেই। জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জুবায়ের আহমদ বলেন, “আমরা সবসময় গর্ব করে বলি-আমাদেরও একজন ভাষাসৈনিক মতিন উদ্দীন ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, তাঁর জন্মভূমিতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর মতো কোনো স্মৃতি কমপ্লেক্স বা লাইব্রেরি আজও হয়নি। আমরা চাই সরকারি উদ্যোগে দ্রুত এখানে তাঁর নামে একটি আধুনিক পাবলিক লাইব্রেরি করা হোক।”

‎নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছেও এই বীরের ইতিহাস প্রায় অজানা। জকিগঞ্জের ইছামতি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মুফিদ আক্ষেপ করে বলেন, “পাঠ্যবইয়ে আমরা ভাষা শহীদদের কথা পড়ি। কিন্তু আমাদের নিজ উপজেলার একজন মানুষ যে এই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রপথিক ছিলেন, তা অনেক বন্ধুই জানে না। এখানে তাঁর নামে কোনো পাঠাগার বা স্মৃতিভবন থাকলে আমরা তাঁর সম্পর্কে জানার সুযোগ পেতাম।”

‎উল্লেখ্য, মতিন উদ্দীন আহমদের সংগৃহীত চার হাজারেরও বেশি দুর্লভ নিদর্শন নিয়ে সিলেট নগরের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে একটি জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু তাঁর শিকড় যেখানে, সেই জকিগঞ্জে আজ পর্যন্ত তাঁকে স্মরণ করার কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ রয়েছে সুধীমহলে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জকিগঞ্জবাসীর দাবি, এই ভাষাসৈনিকের স্মৃতি রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।