মূল কনটেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

শেষ বলের নাটকীয়তায় সিলেট টাইটান্স এর অবিশ্বাস্য জয়


নিজস্ব প্রতিবেদক
emonmiru 2 27 12 2025 ezgif.com jpg to webp converter
emonmiru 2 27 12 2025 ezgif.com jpg to webp converter

বিপিএলের মঞ্চে রুদ্ধশ্বাস এক লো স্কোরিং থ্রিলার উপহার দিল সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস। উত্তেজনায় ভরপুর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত গড়ায় শেষ বলে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক উইকেটে নাটকীয় জয় তুলে নেয় স্বাগতিক সিলেট টাইটান্স।

টস জিতে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সিলেট। শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে নোয়াখালী। দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত ও হাবিবুর রহমান সোহান দুজনই খাতা না খুলেই ফিরে যান। তিনে নেমে সৈকত আলী কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও আরেক প্রান্তে হায়দার আলীও শূন্য রানে ফিরলে প্রথম চার ব্যাটারের তিনজনই শূন্য রানে আউট হন। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৮ রান তোলে নোয়াখালী।

সৈকতের সঙ্গে ইনিংস সামাল দেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ২৯ বলে ২৪ রান করে সৈকত ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন অঙ্কন। মাঝখানে সাব্বির হোসেন ১৫ বলে ১৫ রান যোগ করেন। শেষ দিকে জাকের আলী অনিক এসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রানের গতি বাড়ান। অঙ্কন ও জাকেরের জুটিতে নোয়াখালী লড়াইয়ের পুঁজি পায়। শেষ ওভারে ১৭ বলে ২৯ রান করে আউট হন জাকের। ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ৫১ বলে ৬১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন অঙ্কন। নির্ধারিত ২০ ওভারে নোয়াখালী তোলে ১৪৩ রান ৭ উইকেটে।

সিলেটের বোলিংয়ে খালেদ আহমেদ ছিলেন সেরা। তিনি নেন চার উইকেট। দুটি উইকেট পান সাইম আইয়ুব। একটি উইকেট নেন মোহাম্মদ আমির।

১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট। ওপেনার সাইম আইয়ুব ও রনি তালুকদার দ্রুত ফিরলে ১৭ রানে দুই উইকেট হারায় দলটি। এরপর জাকির হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন জুটি গড়েন। জাকির ১৩ রান করে ফিরলেও ইমন দায়িত্ব নিয়ে খেলতে থাকেন। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

ইমন ৪১ বলে দৃষ্টিনন্দন ৬০ রান করে ফিরে গেলে আবার চাপে পড়ে সিলেট। এরপর মিরাজ এগিয়ে যান ইনিংস ধরে রাখতে। কিন্তু ১৮তম ওভারে নোয়াখালীর মেহেদী হাসান রানার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে মিরাজসহ তিন ব্যাটার ফিরে গেলে ম্যাচ ঘুরে যায়। শেষ দুই ওভারে দরকার পড়ে ১৯ রান।

শেষ ওভারে দরকার ১৩। বোলিংয়ে সাব্বির হোসেন। প্রথম দুই বল ডট। তৃতীয় বল নো বল ও ফ্রি হিটে ছক্কা হাঁকান ইথান ব্রুকস। পরের বল চার। হঠাৎ করেই সমীকরণ দাঁড়ায় দুই বলে দুই রান। কিন্তু সহজ এই মুহূর্তে রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যান ব্রুকস। শেষ বলে এক রান প্রয়োজন। ওয়াইড দিয়ে ম্যাচে নতুন নাটক যোগ করেন সাব্বির। পরের বল এক রান নিয়ে অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে সিলেট টাইটান্স।

নোয়াখালীর হয়ে মেহেদী হাসান রানা নেন চার উইকেট। হাসান মাহমুদ দুটি। জাহির খান ও রেজাউর রহমান রাজা একটি করে উইকেট পান। কিন্তু শেষ বলের নাটকে সব ছাপিয়ে যায় সিলেটের জয়গাথা।