
জকিগঞ্জ উপজেলার ৬নং সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনন্দপুর গ্রামের রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেছেন তিনি। তবে ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিহাব উদ্দিনের দাবি, তার দেওয়া প্রকল্পই পরবর্তীতে পরিবর্তন করা হয়েছে।
সম্প্রতি আনন্দপুর গ্রামের সাহেদ আহমদের বাড়ির সামনে থেকে ককাই মিয়ার বাড়ির সামনে পর্যন্ত রাস্তা ইট সলিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়নের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে অন্যত্র বরাদ্দ দেওয়ার দাবি করা হয়।
চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আনন্দপুরের উল্লেখিত রাস্তাটি কোনো প্রকল্পের তালিকায় ছিল না। নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে হেয় করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আগামী বরাদ্দ থেকে আনন্দপুরের ওই রাস্তায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশনে ১২ নম্বর ক্রমিকে গঙ্গাজল আলিফ সেন্টারের সামনে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। পরে অন্য উৎস থেকে যাত্রী ছাউনির বরাদ্দ পাওয়ায় একই ক্রমিকে ‘কবির আহমদের বাড়ির পুরাতন ইট সলিং হইতে কুশিয়ারা ডাইক পর্যন্ত ইট সলিং দ্বারা উন্নয়ন’ প্রকল্পে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা (দ্বিতীয় কিস্তি) বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিহাব উদ্দিন বলেন, সভার দিন তিনি তার মাকে নিয়ে সিলেটের হাসপাতালে ছিলেন। সভা চলাকালে ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য আরিফ মেম্বারের মোবাইলে ফোন করে তিনি আনন্দপুরের প্রকল্পটি দেন এবং পরে প্রকল্প কমিটির জন্য ১৮টি এনআইডি কার্ডের কপি জমা দেন। পরবর্তীতে তাকে বেকায়দায় ফেলতে একই ওয়ার্ডের শহিদাবাদ গ্রামে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শিহাব উদ্দিন আরও দাবি করেন, চেয়ারম্যান শুধু তার প্রকল্পই পরিবর্তন করেননি, মহিলা সদস্য নাঈমা মেম্বারের প্রকল্পও পরিবর্তন করে অন্যত্র কাজ করেছেন।
এদিকে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সভার রেজুলেশন ও উপজেলা বিজিসি কমিটির রেজুলেশনের কপি উপস্থাপন করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের দাবি, এসব নথিতে আনন্দপুরের উল্লেখিত রাস্তার প্রকল্পের নাম নেই।
অভিযোগের পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোশাররফ হোসেন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমি তদন্ত করেছি। রিপোর্ট এখনো দেইনি। বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান সাহেব বলেছেন, আগামী বরাদ্দ থেকে আনন্দপুরের জন্য রাখা হবে।’
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।