
জামায়াতে ইসলামীকে একটি সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। একই সঙ্গে দলটির মধ্যে দ্বিমুখী নীতি রয়েছে এবং তাদের ইসলামের কোনো সঠিক ধারণা বা আইডিয়া নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম এশিয়া পোস্ট-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রবীণ এই কওমি নেতা ও রাজনীতিবিদ জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে এই তীব্র সমালোচনা করেন।
সাক্ষাৎকারে অধিকাংশ ইসলামপন্থি দল ১১ দলীয় জোটে গেলেও জমিয়ত কেন বাইরে থাকল এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, ওই জোটে তো ইসলাম নেই এবং সেখানে যাওয়ার কোনো কারণও নেই। জামায়াতে ইসলামী একটা সেক্যুলার দল, আওয়ামী লীগ সেক্যুলার দল, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, এনসিপি সেক্যুলার দল। এদের তো ইসলাম নিয়ে কোনো কর্মসূচি নেই। জামায়াত সেক্যুলার এবং কথাও বলে সেক্যুলারিজমের।
জামায়াতের নীতি ও রাজনৈতিক ইশতেহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে জমিয়ত সভাপতি বলেন, জামায়াতের মধ্যে দ্বিমুখী নীতি আছে। তারা মানুষের কাছে বলে ইসলাম করবে, কিন্তু ইশতেহারে বলে শরিয়া আইন করবে না, ইসলামি হুকুমত করবে না। জামায়াতের ইসলাম নিয়ে আইডিয়াই নেই। মওদুদি সাহেবের কয়েকটি বই-ই তাদের সর্বোচ্চ তহবিল। এখানে কোরআন, হাদিস বা ফিকহ নেই। জামায়াতের যে যোগ্যতা, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একই যোগ্যতা। তাদের মধ্যে ইসলামের কোনো প্রোগ্রামই নেই।
যারা জামায়াতের জোটে অংশ নিয়েছেন তারা ভুল বোঝাবুঝিতে বা ধোঁকায় পড়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জামায়াত তার আদর্শের ওপরে পৃথিবীতে কোনো মহল্লাও গড়তে পারেনি। এই ব্যর্থ শক্তির কাছে জমিয়ত কেন যাবে এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জমিয়তের আদর্শগত এবং মৌলিক আপত্তির জায়গাগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক জানান, ইসলাম একটা ধর্ম যার মূল ভিত্তি কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস। কিন্তু জামায়াত ইজমা ও কিয়াস মানে না। মওদুদি সাহেব যেসব হাদিসের স্বীকৃতি দিয়েছেন, সেগুলো ছাড়া অন্যগুলো তারা মানে না। মওদুদি বলেছিলেন যে মুহাদ্দিসরা যেসব হাদিসকে বিশুদ্ধ বলে, তারা সেগুলো বিশুদ্ধ বলেন না, বরং নিজেরা যাচাই-বাছাই করে বলেন। ফলে সাড়ে তিনটা পয়েন্টই তাদের মধ্যে নেই এবং তারা কোরআনও মানেন মওদুদীর ব্যাখ্যায়। জামায়াতের ডজন ডজন পয়েন্ট আছে যেগুলো ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীর দল গঠনের ইতিহাস টেনে এই কওমি আলেম দাবি করেন, মওদুদি যখন দলটির নাম জামায়াতে ইসলামী দিয়েছিলেন, সেই সভায় হিন্দুস্তানের ৮০ জন বড় বড় আলেম উপস্থিত থাকলেও কেউ তাঁর সঙ্গে থাকেননি। সবাই ওই সভায় তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এটি এমন একটি নাম যার মধ্যে আসলে কোনো ইসলাম নেই। নির্বাচনে ইসলামের কথা বলে জামায়াত জাতিকে ধোঁকা দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত ছাড়া সমমনা অন্য ইসলামি দলগুলো নিয়ে একটি শক্তিশালী ও বৃহত্তর ঐক্য গড়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল তাদের। কিন্তু অন্য দলগুলো জামায়াতের সঙ্গে সভা করায় তারা হতাশ হন। মূলত জামায়াত যেন এ দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে, সেজন্যই তারা শেষ মুহূর্তে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছিলেন। কারণ জামায়াতকে দেশ ও ইসলামের জন্য অকল্যাণকর মনে করেন তারা।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।