
সিলেটের গোয়াইনঘাটে নৌকা চুরির অপবাদ দিয়ে এক যুবকের দুই চোখ উপড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে তোয়াকুল বাজার এলাকা থেকে তাকে অপহরণের পর নির্যাতন চালিয়ে এই জখম করা হয়। আহত যুবকের নাম খালেদ আহমদ (২০)। তিনি স্থানীয় লাকী গ্রামের সোনাই মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে তোয়াকুল বাজারে যান খালেদ আহমদ। এ সময় নৌকা চুরির অভিযোগ তুলে শাহপুর গ্রামের মোস্তাক আহমদ, পছাই মিয়া, সেলিম আহমদ, ফখরুল ইসলাম, ইলিয়াস মিয়া, তোতা মিয়া এবং সিরাজ উদ্দিনসহ একদল লোক সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। অভিযুক্তরা খালেদকে শাহপুর গ্রামের মোস্তাক আহমদের বাড়িতে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করে এবং একপর্যায়ে তার দুটি চোখ উপড়ে ফেলে। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। খবর পেয়ে খালেদের মা কুটনা বেগম হাসপাতালে গিয়ে তাকে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
তোয়াকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লোকমান আহমদ জানান, তোয়াকুল বাজার থেকে খালেদকে অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই তিনি মূল অভিযুক্ত মোস্তাককে ফোন করেছিলেন। তিনি খালেদকে মারধর না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার অনুরোধ জানালেও তারা সেই কথা শোনেনি।
তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লোকমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রবিবার বিকেলে শাহপুর গ্রামের কয়েকজন মিলে খালেদকে বাজার থেকে ধরে নিয়ে যায়। ঘটনাটি জানার পর তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য লোকমান আহমদকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবককে উদ্ধার করতে বলেছিলেন। কিন্তু হামলাকারীরা মেম্বারের কোনো অনুরোধ না রেখে পুলিশে খবর না দিয়ে খালেদকে মারপিট করে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।