
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বোমা হামলায় নিহত মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার প্রবাসী আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা শাহী ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ ২৭ বছরের প্রবাস জীবনের পর নিথর দেহে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে এলেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
সোমবার দুপুরে মরদেহবাহী বিমান সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে দুবাই থেকে মরদেহটি প্রথমে ঢাকায় আনা হয়। সেখানে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে মরদেহ বড়লেখার গাজিটেকা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। আসর নামাজের পর অনুষ্ঠিত জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্বজন ও হাজারো মানুষ অংশ নেন। প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতে এসে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মরদেহ গ্রহণের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি তিনজনের মরদেহও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পররাষ্ট্র, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ক্রাইসিস টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় আটকে পড়া প্রবাসীদের খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া জানান, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে প্রয়োজনে চার্টার্ড বিমানে করে প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। বিমানবন্দরে নিহতের মামাতো ভাই কামাল আহমদ জানান, সালেহ আহমদ প্রায় ২৭ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন এবং তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর এক ছেলে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। সরকারি সহযোগিতায় মরদেহ দেশে ফেরায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি যুদ্ধে নিহত প্রবাসীদের ‘শহীদ’ ঘোষণার দাবি জানান।
বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামের বাসিন্দা সালেহ আহমদ দুবাইয়ে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর কাজে বের হলে একটি বোমা বিস্ফোরণে তিনি নিহত হন। মৃত্যুকালে তিনি বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। দীর্ঘ ২৭ বছর প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।