জকিগঞ্জের রারাই গ্রাম
স্বাধীনতা ৪০ বছর পরও বিদ্যুৎ জোটেনি
জুবায়ের আহমদ
সত্তর বছেরর বৃদ্ধ কুঠন মিয়ার আপসোস জীবনের পুরো সময় টুকুই কেরসিন আর হারিকেন বাতি দিয়ে চালালেন। বিদ্যুতের আলো আর তার ভাগ্যে জুটলনা। একই আপসোস মাও. আব্দুল কাদির ও আরব আলীর। এরা সকলেই জকিগঞ্জ ইউনিয়নের রারাই গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামের প্রায় ৪শত মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত। অতচ এই গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে গেছে বিদ্যুতের মেইন লাইন। দেশ স্বাধীনের ৪০ বছর পার হলেও গ্রামবাসী এখনো বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সামান্য আলোর আশায় ধরনা দিয়েছেন বিদ্যুৎ অফিসসহ জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের দ্বারে দ্বারে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। সীমান্তবর্তী জনপদের এ গ্রামটি যোগাযোগ শিক্ষায় দীক্ষায় এগিয়ে থাকলেও স্বাধীনতার ৪০বছর ধরে আছেন অন্ধকারে। যেখানে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে ম্লান করছেন বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসী। গত জোট সরকারের আমলের এমপি জামাত নেতা ফরিদ চৌধুরী বলেছিলেন জকিগঞ্জ উপজেলায় যদি এক কিলো মিটার বিদ্যুতের কাজ বরাদ্ধ হয় তবে তা হবে রারাই গ্রামে। কিন্তু দেখা গেলো জকিগঞ্জের অনেক স্থানে বিদ্যুৎ পেলেও রারাই গ্রামের কোন খবর নেই। গ্রাম বাসীর এ দাবীটি আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ইউপি সদস্য বেলাল আহমদ রানা জানান, গ্রামে বিদ্যুতের অপেক্ষা করে অনেকেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। দুঃখ জনক হলেও সত্য তাদের সন্তানেরা আজও সন্দিহান এ দাবীর বাস্তবায়ন নিয়ে।
গ্রামের লোকজন বিদ্যুতের খুটি কিনে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশ্য গত রমজান মাসে ডা. মাহতাব আহমদ একটি খুটি নিতে সামর্থ হয়েছেন।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল গফ্ফার জানান, এ নিয়ে আমরা প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দেখা যাক কি হয়।
যুব সংগঠক এম.এ বাক্বী খালেদ জানান, ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, গ্রামে বিদ্যুৎ আসবে আসবে বলে কিন্তু কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পাব তা আল্লাই ভালো জানেন।